ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি

খাটুরা বাওড় দখলমুক্ত করার দাবিতে মৎস্যজীবীদের মানববন্ধন

শফিকুল ইসলাম, যশোর
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২৩ বার পঠিত

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার খাটুরা বাওড় জোরপূর্বক দখল, মাছ আহরণে বাধা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন ১০১ জন মৎস্যজীবী। বাওড়টি দখলমুক্ত করে সরকারি ইজারার শর্ত অনুযায়ী মাছ চাষ ও আহরণের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে তাঁরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ১১টায় যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘জাল যার, জল তার’ প্রতিপাদ্যে খাটুরা বাওড় মৎস্যজীবী সমিতির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সমিতির নেতা আলতাব হোসেনের নেতৃত্বে ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে ১০১ জন মৎস্যজীবী সদস্য অংশ নেন। এ সময় তাঁরা বাওড় দখলের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মানববন্ধনে মৎস্যজীবীরা অভিযোগ করেন, মণিরামপুর উপজেলার খাটুরা বাওড় সরকারি মালিকানাধীন জলাশয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা নিয়ে খাটুরা বাওড় মৎস্যজীবী সমিতি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মাছ চাষ ও আহরণ করে আসছে।

তাঁদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাকের সহযোগিতায় একটি মহল জোরপূর্বক বাওড়টি দখলে নেয়। এরপর থেকে সমিতির সদস্যদের মাছ আহরণে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বাওড়ে মাছ ধরতে গেলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

মৎস্যজীবীরা জানান, বাওড়টির ওপর নির্ভরশীল সমিতির ১০১ জন ভূমিহীন সদস্য ও তাঁদের পরিবার। মাছ চাষ ও আহরণের মাধ্যমে অর্জিত আয় দিয়েই এসব পরিবারের জীবিকা চলে। কিন্তু বাওড়ে যেতে না পারায় তাঁদের উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, খাটুরা বাওড় তাঁদের কাছে শুধু একটি জলাশয় নয়, বরং জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন। দীর্ঘদিন ধরে এই বাওড়ে মাছ চাষ ও আহরণ করে তাঁরা পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ করে আসছেন। অথচ বর্তমানে নিজেদের ইজারাকৃত বাওড়ে মাছ ধরতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

এ সময় তাঁরা সরকারি ইজারার শর্ত অনুযায়ী বাওড়ে মাছ চাষ ও আহরণের অধিকার পুনর্বহাল, কথিত দখলদারদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মৎস্যজীবীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন সমিতির সদস্যরা। স্মারকলিপিতে খাটুরা বাওড়ের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিন তদন্ত, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং প্রকৃত ইজারাদার মৎস্যজীবীদের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

তবে বাওড় দখল, মাছ আহরণে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য জানা যায়নি।

ট্যাগস :

জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি

খাটুরা বাওড় দখলমুক্ত করার দাবিতে মৎস্যজীবীদের মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৪:৪৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার খাটুরা বাওড় জোরপূর্বক দখল, মাছ আহরণে বাধা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন ১০১ জন মৎস্যজীবী। বাওড়টি দখলমুক্ত করে সরকারি ইজারার শর্ত অনুযায়ী মাছ চাষ ও আহরণের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে তাঁরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ১১টায় যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘জাল যার, জল তার’ প্রতিপাদ্যে খাটুরা বাওড় মৎস্যজীবী সমিতির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সমিতির নেতা আলতাব হোসেনের নেতৃত্বে ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে ১০১ জন মৎস্যজীবী সদস্য অংশ নেন। এ সময় তাঁরা বাওড় দখলের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মানববন্ধনে মৎস্যজীবীরা অভিযোগ করেন, মণিরামপুর উপজেলার খাটুরা বাওড় সরকারি মালিকানাধীন জলাশয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা নিয়ে খাটুরা বাওড় মৎস্যজীবী সমিতি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মাছ চাষ ও আহরণ করে আসছে।

তাঁদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাকের সহযোগিতায় একটি মহল জোরপূর্বক বাওড়টি দখলে নেয়। এরপর থেকে সমিতির সদস্যদের মাছ আহরণে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বাওড়ে মাছ ধরতে গেলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

মৎস্যজীবীরা জানান, বাওড়টির ওপর নির্ভরশীল সমিতির ১০১ জন ভূমিহীন সদস্য ও তাঁদের পরিবার। মাছ চাষ ও আহরণের মাধ্যমে অর্জিত আয় দিয়েই এসব পরিবারের জীবিকা চলে। কিন্তু বাওড়ে যেতে না পারায় তাঁদের উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, খাটুরা বাওড় তাঁদের কাছে শুধু একটি জলাশয় নয়, বরং জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন। দীর্ঘদিন ধরে এই বাওড়ে মাছ চাষ ও আহরণ করে তাঁরা পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ করে আসছেন। অথচ বর্তমানে নিজেদের ইজারাকৃত বাওড়ে মাছ ধরতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

এ সময় তাঁরা সরকারি ইজারার শর্ত অনুযায়ী বাওড়ে মাছ চাষ ও আহরণের অধিকার পুনর্বহাল, কথিত দখলদারদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মৎস্যজীবীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন সমিতির সদস্যরা। স্মারকলিপিতে খাটুরা বাওড়ের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিন তদন্ত, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং প্রকৃত ইজারাদার মৎস্যজীবীদের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

তবে বাওড় দখল, মাছ আহরণে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য জানা যায়নি।