ঢাকা ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রামিসা হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

আসামির বক্তব্যে লাগাম টানল আদালত

আদালতের বাইরে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় কোনো আসামি যেন বক্তব্য দিতে না পারে এবং সেই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার না হয়, সে বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেন।

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু এ আবেদন করেন।

আবেদনে তিনি বলেন, কোনো আসামি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে বিচারকের সামনে বা তাঁর অনুমতি ছাড়া বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন না। অথচ মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে আনা-নেওয়ার সময় বিভিন্ন মন্তব্য করছেন, যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এতে বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে এবং মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হতে পারে।

আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে আসামিদের আদালতে আনা-নেওয়ার সময় তারা যাতে কোনো বক্তব্য দিতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর আগে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরে ভুক্তভোগীর মা পারভীন আক্তার সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন। এছাড়া ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীসহ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেবেন।

সকাল পৌনে ৯টার দিকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে তাদের আদালতের এজলাসে উপস্থিত করা হয়।

এর আগে সোমবার আদালত সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিন মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এর আগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষী রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যান বলে অভিযোগ। পরে শিশুটির পরিবার তাকে খুঁজতে গিয়ে আসামির কক্ষের সামনে তার জুতা দেখতে পায়। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।

ঘটনার পর ২০ মে ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রামিসা হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

আসামির বক্তব্যে লাগাম টানল আদালত

আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

আদালতের বাইরে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় কোনো আসামি যেন বক্তব্য দিতে না পারে এবং সেই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার না হয়, সে বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেন।

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু এ আবেদন করেন।

আবেদনে তিনি বলেন, কোনো আসামি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে বিচারকের সামনে বা তাঁর অনুমতি ছাড়া বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন না। অথচ মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে আনা-নেওয়ার সময় বিভিন্ন মন্তব্য করছেন, যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এতে বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে এবং মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হতে পারে।

আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে আসামিদের আদালতে আনা-নেওয়ার সময় তারা যাতে কোনো বক্তব্য দিতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর আগে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরে ভুক্তভোগীর মা পারভীন আক্তার সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন। এছাড়া ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীসহ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেবেন।

সকাল পৌনে ৯টার দিকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে তাদের আদালতের এজলাসে উপস্থিত করা হয়।

এর আগে সোমবার আদালত সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিন মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এর আগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষী রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যান বলে অভিযোগ। পরে শিশুটির পরিবার তাকে খুঁজতে গিয়ে আসামির কক্ষের সামনে তার জুতা দেখতে পায়। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।

ঘটনার পর ২০ মে ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।