ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ বিজেপির

যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত ভারতীয় রাজনীতি

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান একটি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আন্দোলনটি ঘিরে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, বিক্ষোভের পেছনে বিদেশি শক্তির প্রভাব রয়েছে এবং এটি দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্টের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুঘ অভিযোগ করেছেন, কিছু আন্তর্জাতিক শক্তি ভারতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরের কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিজেপির দাবি অনুযায়ী, ‘সিজেপি’ নামের একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। যন্তর মন্তরের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করার পর তিনি দেশে ফেরেন বলে দলীয় সূত্রের বক্তব্য।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঝাড়খণ্ড সফররত বিজেপির নবনিযুক্ত সভাপতি নীতিন নবীনও একই ধরনের মন্তব্য করে বলেন, দেশের বাইরে অবস্থান করে কেউ ভারতের তরুণ সমাজকে পরিচালিত করতে পারে না। তার দাবি, দেশের যুবসমাজ এ ধরনের নেতিবাচক রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করবে। গত শনিবার অনুষ্ঠিত ওই বিক্ষোভে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, চাকরিপ্রার্থীসহ বিভিন্ন বামপন্থি ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। ফলে আন্দোলনটি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ব্যাপকতা লাভ করে।

বিজেপির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে না। দলটির মতে, নির্বাচনী রাজনীতিতে ব্যর্থ কিছু গোষ্ঠী ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ললিত মোদি বিতর্কের উদাহরণ টেনে বলেন, সরকার কোনো ধরনের চাপের মুখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না। তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, জুনের শেষ দিকে বা জুলাইয়ের শুরুতে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের সময় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অন্য দায়িত্বে পাঠানো হতে পারে।

এদিকে বিজেপি আন্দোলনকারীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান বিশ্লেষণ করছে বলে জানা গেছে। দলটির দাবি, বিক্ষোভকারীরা মূলত জেন-জি প্রজন্মের একটি নির্দিষ্ট অংশের প্রতিনিধিত্ব করছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গ্রামীণ অঞ্চলের কৃষক ও শ্রমজীবী পরিবারের তরুণরা সরকারি কল্যাণমূলক কর্মসূচির সুফল পেয়ে সরকারের প্রতি আস্থা রাখছে।

আরএসএস-ঘনিষ্ঠ হিন্দি সাপ্তাহিক পাঞ্চজন্য এবং তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে বিক্ষোভের বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে আন্দোলনকারীদের দেশপ্রেম ও জাতীয় অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি বিক্ষোভে ব্যবহৃত কিছু স্লোগান দেশবিরোধী কি না, তা তদন্তের দাবিও উঠেছে। সব মিলিয়ে যন্তর মন্তরের এ বিক্ষোভ এখন শুধু একটি সামাজিক আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ বিজেপির

যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত ভারতীয় রাজনীতি

আপডেট সময় : ০৩:১৫:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান একটি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আন্দোলনটি ঘিরে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, বিক্ষোভের পেছনে বিদেশি শক্তির প্রভাব রয়েছে এবং এটি দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্টের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুঘ অভিযোগ করেছেন, কিছু আন্তর্জাতিক শক্তি ভারতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরের কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিজেপির দাবি অনুযায়ী, ‘সিজেপি’ নামের একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। যন্তর মন্তরের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করার পর তিনি দেশে ফেরেন বলে দলীয় সূত্রের বক্তব্য।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঝাড়খণ্ড সফররত বিজেপির নবনিযুক্ত সভাপতি নীতিন নবীনও একই ধরনের মন্তব্য করে বলেন, দেশের বাইরে অবস্থান করে কেউ ভারতের তরুণ সমাজকে পরিচালিত করতে পারে না। তার দাবি, দেশের যুবসমাজ এ ধরনের নেতিবাচক রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করবে। গত শনিবার অনুষ্ঠিত ওই বিক্ষোভে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, চাকরিপ্রার্থীসহ বিভিন্ন বামপন্থি ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। ফলে আন্দোলনটি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ব্যাপকতা লাভ করে।

বিজেপির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে না। দলটির মতে, নির্বাচনী রাজনীতিতে ব্যর্থ কিছু গোষ্ঠী ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ললিত মোদি বিতর্কের উদাহরণ টেনে বলেন, সরকার কোনো ধরনের চাপের মুখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না। তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, জুনের শেষ দিকে বা জুলাইয়ের শুরুতে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের সময় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অন্য দায়িত্বে পাঠানো হতে পারে।

এদিকে বিজেপি আন্দোলনকারীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান বিশ্লেষণ করছে বলে জানা গেছে। দলটির দাবি, বিক্ষোভকারীরা মূলত জেন-জি প্রজন্মের একটি নির্দিষ্ট অংশের প্রতিনিধিত্ব করছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গ্রামীণ অঞ্চলের কৃষক ও শ্রমজীবী পরিবারের তরুণরা সরকারি কল্যাণমূলক কর্মসূচির সুফল পেয়ে সরকারের প্রতি আস্থা রাখছে।

আরএসএস-ঘনিষ্ঠ হিন্দি সাপ্তাহিক পাঞ্চজন্য এবং তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে বিক্ষোভের বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে আন্দোলনকারীদের দেশপ্রেম ও জাতীয় অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি বিক্ষোভে ব্যবহৃত কিছু স্লোগান দেশবিরোধী কি না, তা তদন্তের দাবিও উঠেছে। সব মিলিয়ে যন্তর মন্তরের এ বিক্ষোভ এখন শুধু একটি সামাজিক আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া।