ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কেশবপুরে ডোংগাঘাটা বেলতলা পূজামন্দিরের রজতজয়ন্তী উদ্‌যাপন Logo যশোরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত Logo আনসার-ভিডিপি’র ৩ সদস্যকে সম্মাননা দিলেন জেলা প্রশাসক Logo কেশবপুরে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা Logo দর্শনায় দুর্গামাতা মন্দির পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক Logo ফের গ্রেপ্তার ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগরওয়ালা Logo বেনাপোলে দুই পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা দিলেন মেয়রপ্রার্থী ইমদাদ Logo যশোর সীমান্তে প্রায় ৮ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ Logo বিজয়ের আগমনী বার্তা বহন করে মহানবমী পূজা Logo যশোরে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির উপদেষ্টা পরিষদ গঠন

নড়াইলে যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৩১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / ৩৯ বার পঠিত

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার লাজিনা আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধুকে দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের একপর্যায়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী আব্দুর রহমান ও শশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৩ জুলাই) নড়াইল জেলা হাসপাতাল মর্গের সামনে নিহতের স্বজনরা এসব অভিযোগ করেন। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার চাঁচুড়ি নাঙ্গুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের স্বজনরা জানায়, পারিবারিকভাবে প্রায় পাঁচ বছর আগে একই উপজেলার চাঁচুড়ি নাঙ্গুলিয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের সঙ্গে লাজিনার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে লাজিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলতে থাকে স্বামী ও শশুর বাড়ির লোকজন। প্রথমে বিদেশে যাওয়ার জন্য স্বামীর দাবিতে লাজিনার পরিবার দুই লাখ টাকা দেয়। পরে বিদেশ থেকে ফিরে ইজিবাইক কেনার জন্য আরও এক লাখ টাকা দাবি করা হলে, আর্থিক অসচ্ছলতা সত্ত্বেও ধারদেনা করে সেই অর্থও দেওয়া হয়। এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করে নিহতের পরিবারের।

স্বজনদের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে লাজিনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে মরদেহ রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে কালিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে শুক্রবার নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

নিহতের মামা জার্জিস শেখ জানান, লাজিনার ইচ্ছা ছিল তার সন্তানকে মাদ্রাসায় পড়িয়ে কোরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু তার অকাল মৃত্যু সেই স্বপ্ন অসমাপ্ত রেখে গেল। ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি। তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি, সকলে পলাতক রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কালিয়া থানার ওসি ইদ্রিস আলী জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নড়াইলে যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:৩১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার লাজিনা আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধুকে দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের একপর্যায়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী আব্দুর রহমান ও শশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৩ জুলাই) নড়াইল জেলা হাসপাতাল মর্গের সামনে নিহতের স্বজনরা এসব অভিযোগ করেন। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার চাঁচুড়ি নাঙ্গুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের স্বজনরা জানায়, পারিবারিকভাবে প্রায় পাঁচ বছর আগে একই উপজেলার চাঁচুড়ি নাঙ্গুলিয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের সঙ্গে লাজিনার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে লাজিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলতে থাকে স্বামী ও শশুর বাড়ির লোকজন। প্রথমে বিদেশে যাওয়ার জন্য স্বামীর দাবিতে লাজিনার পরিবার দুই লাখ টাকা দেয়। পরে বিদেশ থেকে ফিরে ইজিবাইক কেনার জন্য আরও এক লাখ টাকা দাবি করা হলে, আর্থিক অসচ্ছলতা সত্ত্বেও ধারদেনা করে সেই অর্থও দেওয়া হয়। এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করে নিহতের পরিবারের।

স্বজনদের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে লাজিনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে মরদেহ রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে কালিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে শুক্রবার নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

নিহতের মামা জার্জিস শেখ জানান, লাজিনার ইচ্ছা ছিল তার সন্তানকে মাদ্রাসায় পড়িয়ে কোরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু তার অকাল মৃত্যু সেই স্বপ্ন অসমাপ্ত রেখে গেল। ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি। তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি, সকলে পলাতক রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কালিয়া থানার ওসি ইদ্রিস আলী জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।