পৈতৃক ভিটা থেকে পরিবার উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ১১:১৪:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / ৪৮ বার পঠিত

যশোর সদর উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামে পৈতৃক ভিটা থেকে একটি পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো, হয়রানি ও মারধরেরও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে পরিবারটির সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
সোমবার প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন চাঁদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুজন হোসেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি বি. এম. এলাম হোসেন রানাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা ও পরিবারের সদস্যদের হয়রানির অভিযোগ করেন।
সুজনের দাবি, বসতবাড়ির সঙ্গে থাকা প্রায় দুই শতক জমি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। একপর্যায়ে আইনগত ও পারিবারিকভাবে জমি ভাগবাটোয়ারা করে সংশ্লিষ্টদের প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া হলেও বিরোধের অবসান হয়নি।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সহযোগিতার জন্য বিএনপি নেতা বি. এম. এলাম হোসেন রানার কাছে গেলে তিনি অভিযুক্তদের পক্ষ নেন বলে তাদের অভিযোগ। পরে পারিবারিকভাবে বিরোধ মীমাংসা করে বিধবা ও এতিমদের প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও জাফর ও সুজনের রাস্তার পাশের বসতবাড়ির জমি দখলের চেষ্টা করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের উদ্যোগে সালিশ বৈঠকও হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সুজন অভিযোগ করেন, প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের তার জমি জোরপূর্বক মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রির কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় বি. এম. এলাম হোসেন রানা সহযোগিতা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। পরে জমির ক্রেতা আবুল কালাম আজাদ জমি দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে বি. এম. এলাম হোসেন রানা এতে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন সুজন।
পরে বিরোধটি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিতর্কিত জমি নিয়ে ১৪৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে এবং আদালত থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও নেওয়া হয়েছে।
সুজনের অভিযোগ, আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন ওই জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিধবা হুমায়া, রকি ও বিএনপি নেতা বি. এম. এলাম হোসেন রানা তাঁদের ভয়ভীতি দেখান এবং মারধর করেন। এ অবস্থায় সুজন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান। তাঁরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাফর আলী, মর্জিনা বেগম, রেজাউল ইসলাম, শিরিনা বেগম, সেলিম রেজাসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।















