ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আসামিরা প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

চার মাস ধরে নিখোঁজ সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী, দিশেহারা পরিবার

রিপন বিশ্বাস, নড়াইল
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৭ বার পঠিত

মাদারীপুরের ১৪ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে নড়াইলে এনে নথিপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে পাসপোর্ট তৈরি করে ভারতে পাচারের অভিযোগে করা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মামলার বাদীপক্ষ ও সাংবাদিকেরা। নিখোঁজ ওই ছাত্রীর নাম সমাপ্তী বাড়ৈ। তার বাবা কালু বাড়ৈ মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার চৌরাশী গ্রামের বাসিন্দা। মেয়ের সন্ধান না পেয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এ ঘটনায় ভারতীয় নাগরিক আবিরসহ আটজনকে আসামি করে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল, নড়াইলে মামলা করেছেন তিনি। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল সরোয়ারকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ, আসামিদের মধ্যে সাতজন নড়াইলের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে তিনজন সরকারি কর্মচারী। মামলার আসামিরা কিছুদিন আড়ালে থাকলেও বর্তমানে নিজ নিজ এলাকায় এবং কর্মস্থলে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি।

বিশেষ করে, মামলার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক আবিরকে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে নড়াইলের দেবভোগ গ্রামের সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া স্কুলের সনদ জাল করার অভিযোগ রয়েছে শিক্ষিকা মিঠু রাণী ভদ্রের বিরুদ্ধে। তাঁদের প্রকাশ্যে অবস্থানের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদীপক্ষকে সহযোগিতাকারী সাংবাদিকেরা।

মামলার বাদী কালু বাড়ৈ জানান, প্রায় চার মাস ধরে তাঁর মেয়ে নিখোঁজ। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ের সন্ধান পাননি তিনি। একপর্যায়ে তিনি রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে মেয়েকে অপহরণ এবং পাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি থাকার অভিযোগ জানিয়ে আবেদন করেন।

পরে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সাংবাদিকদের সহায়তায় নড়াইলের সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা করেন। মামলার বাদীকে সহযোগিতা করছেন চার সাংবাদিক সাজ্জাদ আলম খান সজল, সুমন চক্রবর্তী, স্বপন কুমার দাস ও রিপন বিশ্বাস।

তাঁরা বলেন, মানবপাচারের অভিযোগে মামলার আসামিরা কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর আবার প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। অথচ এখনো তাঁদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, একজন কিশোরী দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পরও তার সন্ধান নিশ্চিত করা যায়নি। এ অবস্থায় মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তাঁরা দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নিখোঁজ কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত এবং তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। প্রয়োজনে তদন্তের দায়িত্ব অন্য কোনো উপযুক্ত সংস্থাকে দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করবেন বলেও জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ওসি রাসেল সরোয়ার সংবাদকর্মীদের বলেন, রাজৈর থানার মামলা আপনারা আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছেন। তদন্ত চলছে, আসামি আটকের চেষ্টা করছি।

তবে মামলার তদন্তের অগ্রগতি, আসামিদের গ্রেপ্তারে নেওয়া পদক্ষেপ এবং নিখোঁজ কিশোরীর সন্ধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে মামলার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

ট্যাগস :

আসামিরা প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

চার মাস ধরে নিখোঁজ সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী, দিশেহারা পরিবার

আপডেট সময় : ০৮:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

মাদারীপুরের ১৪ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে নড়াইলে এনে নথিপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে পাসপোর্ট তৈরি করে ভারতে পাচারের অভিযোগে করা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মামলার বাদীপক্ষ ও সাংবাদিকেরা। নিখোঁজ ওই ছাত্রীর নাম সমাপ্তী বাড়ৈ। তার বাবা কালু বাড়ৈ মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার চৌরাশী গ্রামের বাসিন্দা। মেয়ের সন্ধান না পেয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এ ঘটনায় ভারতীয় নাগরিক আবিরসহ আটজনকে আসামি করে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল, নড়াইলে মামলা করেছেন তিনি। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল সরোয়ারকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ, আসামিদের মধ্যে সাতজন নড়াইলের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে তিনজন সরকারি কর্মচারী। মামলার আসামিরা কিছুদিন আড়ালে থাকলেও বর্তমানে নিজ নিজ এলাকায় এবং কর্মস্থলে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি।

বিশেষ করে, মামলার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক আবিরকে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে নড়াইলের দেবভোগ গ্রামের সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া স্কুলের সনদ জাল করার অভিযোগ রয়েছে শিক্ষিকা মিঠু রাণী ভদ্রের বিরুদ্ধে। তাঁদের প্রকাশ্যে অবস্থানের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদীপক্ষকে সহযোগিতাকারী সাংবাদিকেরা।

মামলার বাদী কালু বাড়ৈ জানান, প্রায় চার মাস ধরে তাঁর মেয়ে নিখোঁজ। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ের সন্ধান পাননি তিনি। একপর্যায়ে তিনি রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে মেয়েকে অপহরণ এবং পাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি থাকার অভিযোগ জানিয়ে আবেদন করেন।

পরে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সাংবাদিকদের সহায়তায় নড়াইলের সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা করেন। মামলার বাদীকে সহযোগিতা করছেন চার সাংবাদিক সাজ্জাদ আলম খান সজল, সুমন চক্রবর্তী, স্বপন কুমার দাস ও রিপন বিশ্বাস।

তাঁরা বলেন, মানবপাচারের অভিযোগে মামলার আসামিরা কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর আবার প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। অথচ এখনো তাঁদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, একজন কিশোরী দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পরও তার সন্ধান নিশ্চিত করা যায়নি। এ অবস্থায় মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তাঁরা দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নিখোঁজ কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত এবং তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। প্রয়োজনে তদন্তের দায়িত্ব অন্য কোনো উপযুক্ত সংস্থাকে দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করবেন বলেও জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ওসি রাসেল সরোয়ার সংবাদকর্মীদের বলেন, রাজৈর থানার মামলা আপনারা আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছেন। তদন্ত চলছে, আসামি আটকের চেষ্টা করছি।

তবে মামলার তদন্তের অগ্রগতি, আসামিদের গ্রেপ্তারে নেওয়া পদক্ষেপ এবং নিখোঁজ কিশোরীর সন্ধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে মামলার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।