ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
থানায় অভিযোগ

আমার পেটে বাবু আছে জেনেই ওরা লাথি মারছে

এস এম তাজাম্মুল, মনিরামপুর (যশোর)
  • আপডেট সময় : ০৮:৫০:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২১ বার পঠিত

গরুর অবলা বাছুর গেছিলো প্রতিবেশীর জমির উপর! সেখান থেকেই বাকবিতন্ডার সূত্র ধরে গৃহবধূর গর্ভ উদ্দেশ্য করে লাথি মেরে মাতৃগর্ভে থাকা ৪ মাসের নবজাতক শিশুর হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিহিংসামূলক এহেন জঘন্য ঘঠনাটি ঘটেছে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বালিয়াডাংগা খানপুর গ্রামে।

অমানবিক এ ঘঠনার বিচারদাবী করে আহত অন্তঃসত্বা নারী রাবেয়া আক্তার মুক্তার (২৫) স্বামী উপজেলার বালিয়াডাংগা খানপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে আনিছুর রহমান একই গ্রামের তার প্রতিবেশী আঃ রহমান (৫০) ও তার স্ত্রী ময়না বেগম(৫০) দম্পতির বিরুদ্ধে বুধবার (২১ শে অক্টোবর) মণিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

থানা অফিসার ইনচার্জ বারাবর ঐ লিখিত অভিযোগে যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীর স্বামী দাবী করেছেন, অভিযুক্ত প্রতিবেশী দম্পতির সাথে তাদের বিগত দিনে পারিবারিক বিরোধ ছিলো।

ঘটনার দিন বুধবার (২১ শে অক্টোবর) সকালে ক্ষতিগ্রস্তের গরুর একটি অবলা বাছুর আঃ রহমানের বাড়ির উপর গেলে তারা পরিকল্পিত ভাবে বেলা ১২টার দিকে ঝামেলার সৃষ্টি করে অভিযোগ কারীর বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় অভিযোগ কারীর পিতা-মাতার সাথে অশোভন আচরন করে বের হয়ে আশার পথে আনিচুরের ছোট ভাইকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলে তার ছোট ভাই হাদিউর রহমান অভিযুক্তদের সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয়।

একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত ভ্যান চালক আঃ রহমান ও তার স্ত্রী হাদিকে মারধর করতে থাকলে চিৎকারে বাড়ি হতে আনিচুরের বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রাবেয়া আক্তার মুক্তা (২৫) এগিয়ে যায়। মুক্তার গর্ভে ৪ মাসের নবজাতক আছে জেনেই হামলাকারীরা আনিছুরের স্ত্রীর পেটে সজোরে লাথি দিলে মুহুর্তেই ঐ গর্ভবতী নিস্তেজ হয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঘটনার রাতেই মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন গর্ভবতী নারী রাবেয়া আক্তার মুক্তা যন্ত্রণায় কাতর হয়ে জানান, আমার শ্বশুর-শ্বাশুড়ীকে মারধর করা দেখে আমি এগিয়ে গেলে রহমান ও তার স্ত্রী জেনেই আমাকে নিয়ে টানাটানি করতে থাকে, যখন আমি পড়ে যায় সে অবস্থায় আমার গর্ভ লক্ষ করে লাথি দেওয়ার সময়ে বলছিলো, তোর বাছুর তো এই একটা, এইডে মারবো” বলেই গৃহবধূ চাপা কন্ঠে বলতে থাকে- “ওরা আমার পেটে সন্তান জেনে বুঝেই লাথিটা মারলো।”

চোখের কোনে টলমল পানি নিয়ে অন্তঃস্বত্বা ঐ নারী চোখে অসহায় হয়ে বলেন’ আমাদের সাথে বিরোধ হতে পারে, কিন্তু আমার গর্ভের সন্তানের কি দোষ?

সর্বশেষ তথ্য মোতাবেক, বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আছে ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী মুক্তা ও তার অনাগত নবজাতক সংকটাপন্ন সময়ে চিকিৎসাধীন আছে।

কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন যে, মুক্তা মাঝে মাঝে বমি করছে ও এখনো রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত রিপোর্টে সত্যতা মিললে ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানিয়েছে মণিরামপুর থানা পুলিশ।

ট্যাগস :

থানায় অভিযোগ

আমার পেটে বাবু আছে জেনেই ওরা লাথি মারছে

আপডেট সময় : ০৮:৫০:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

গরুর অবলা বাছুর গেছিলো প্রতিবেশীর জমির উপর! সেখান থেকেই বাকবিতন্ডার সূত্র ধরে গৃহবধূর গর্ভ উদ্দেশ্য করে লাথি মেরে মাতৃগর্ভে থাকা ৪ মাসের নবজাতক শিশুর হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিহিংসামূলক এহেন জঘন্য ঘঠনাটি ঘটেছে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বালিয়াডাংগা খানপুর গ্রামে।

অমানবিক এ ঘঠনার বিচারদাবী করে আহত অন্তঃসত্বা নারী রাবেয়া আক্তার মুক্তার (২৫) স্বামী উপজেলার বালিয়াডাংগা খানপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে আনিছুর রহমান একই গ্রামের তার প্রতিবেশী আঃ রহমান (৫০) ও তার স্ত্রী ময়না বেগম(৫০) দম্পতির বিরুদ্ধে বুধবার (২১ শে অক্টোবর) মণিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

থানা অফিসার ইনচার্জ বারাবর ঐ লিখিত অভিযোগে যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীর স্বামী দাবী করেছেন, অভিযুক্ত প্রতিবেশী দম্পতির সাথে তাদের বিগত দিনে পারিবারিক বিরোধ ছিলো।

ঘটনার দিন বুধবার (২১ শে অক্টোবর) সকালে ক্ষতিগ্রস্তের গরুর একটি অবলা বাছুর আঃ রহমানের বাড়ির উপর গেলে তারা পরিকল্পিত ভাবে বেলা ১২টার দিকে ঝামেলার সৃষ্টি করে অভিযোগ কারীর বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় অভিযোগ কারীর পিতা-মাতার সাথে অশোভন আচরন করে বের হয়ে আশার পথে আনিচুরের ছোট ভাইকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলে তার ছোট ভাই হাদিউর রহমান অভিযুক্তদের সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয়।

একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত ভ্যান চালক আঃ রহমান ও তার স্ত্রী হাদিকে মারধর করতে থাকলে চিৎকারে বাড়ি হতে আনিচুরের বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রাবেয়া আক্তার মুক্তা (২৫) এগিয়ে যায়। মুক্তার গর্ভে ৪ মাসের নবজাতক আছে জেনেই হামলাকারীরা আনিছুরের স্ত্রীর পেটে সজোরে লাথি দিলে মুহুর্তেই ঐ গর্ভবতী নিস্তেজ হয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঘটনার রাতেই মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন গর্ভবতী নারী রাবেয়া আক্তার মুক্তা যন্ত্রণায় কাতর হয়ে জানান, আমার শ্বশুর-শ্বাশুড়ীকে মারধর করা দেখে আমি এগিয়ে গেলে রহমান ও তার স্ত্রী জেনেই আমাকে নিয়ে টানাটানি করতে থাকে, যখন আমি পড়ে যায় সে অবস্থায় আমার গর্ভ লক্ষ করে লাথি দেওয়ার সময়ে বলছিলো, তোর বাছুর তো এই একটা, এইডে মারবো” বলেই গৃহবধূ চাপা কন্ঠে বলতে থাকে- “ওরা আমার পেটে সন্তান জেনে বুঝেই লাথিটা মারলো।”

চোখের কোনে টলমল পানি নিয়ে অন্তঃস্বত্বা ঐ নারী চোখে অসহায় হয়ে বলেন’ আমাদের সাথে বিরোধ হতে পারে, কিন্তু আমার গর্ভের সন্তানের কি দোষ?

সর্বশেষ তথ্য মোতাবেক, বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আছে ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী মুক্তা ও তার অনাগত নবজাতক সংকটাপন্ন সময়ে চিকিৎসাধীন আছে।

কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন যে, মুক্তা মাঝে মাঝে বমি করছে ও এখনো রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত রিপোর্টে সত্যতা মিললে ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানিয়েছে মণিরামপুর থানা পুলিশ।