দুই দিনেও থানায় অভিযোগ হয়নি
মণিরামপুরে ভাইপোর ছুরিকাঘাতে প্রাণ সংশয়ে চাচা
- আপডেট সময় : ১২:৩৩:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ১১ বার পঠিত

মাথায় সাদা ব্যান্ডেজ, গলায় গভীর ক্ষত, শরীরে রক্তমাখা টি-শার্ট আর হাতে স্যালাইনের নল। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা ৩২ বছর বয়সী লিটন হোসেনের চোখেমুখে আতঙ্ক আর হতাশার ছাপ। তাঁর অভিযোগ, আপন ভাই তাঁকে ধরে রেখেছিলেন, আর সেই সুযোগে ভাইপো ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেন। তবে ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও থানায় লিখিত অভিযোগ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কাশিপুর গ্রামে পূর্ববিরোধের জেরে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত লিটন হোসেন ওই গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ছেলে। তাঁর অভিযোগ, আপন ভাই সেলিম হোসেন ও ভাইপো নয়ন হোসেন তাঁকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথা, পিঠ ও গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
বুধবার রাতে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন লিটনকে দেখে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তাঁর চাচি তখন বলেন, দেখেন, এতিম ছেলেটার কী অবস্থা করেছে। আশপাশের লোকজন এগিয়ে না এলে নয়ন ওকে জবাই করে ফেলত। এখনো ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বের হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, লিটনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত রয়েছে। তাঁর শরীরে আট থেকে দশটি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় কাশিপুর কমিউনিটি ক্লিনিকসংলগ্ন মোড়ে চাচা-ভাইপোর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হচ্ছিল। একপর্যায়ে তিনি তাঁদের থামিয়ে দিলে নয়ন বাড়ির দিকে চলে যান। পরে সেলিম ও নয়ন একসঙ্গে এসে লিটনের ওপর হামলা করেন বলে তাঁর অভিযোগ।
ওই প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রথমে নয়ন লিটনকে আঘাত করেন। পরে ধস্তাধস্তির সময় সেলিম লিটনের ঘাড় চেপে ধরেন এবং নয়ন ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁর মাথা ও পিঠে আঘাত করতে থাকেন। একপর্যায়ে গলায়ও ছুরি ধরা হয় বলে দাবি করেন তিনি। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান। পরে আহত লিটনকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সেলিম ও নয়নের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য জানতে বাড়িতে গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি।
আহত লিটনের এক চাচাতো ভাই, যিনি বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত বলে জানা গেছে, মুঠোফোনে দাবি করেন, লিটনের সঙ্গে তাঁর ভাই সেলিমের দীর্ঘদিনের আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, লিটনের কাছ থেকে সেলিম উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ নিয়েছেন। সেই অর্থ ফেরত দেওয়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে লিটনকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ওই স্বজন আরও জানান, লিটন কিছুটা সুস্থ হলে এ ঘটনায় মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে অর্থনৈতিক বিরোধের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও আহত লিটনের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে হামলার অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আইনগত পদক্ষেপ এখনো স্পষ্ট নয়।
মণিরামপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

























