ইন্টারনেট বন্ধ, রাতভর ধরপাকড়ের শঙ্কায় থমথমে দিল্লি
- আপডেট সময় : ১০:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
- / ৫৪ বার পঠিত

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (NEET)-এর প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যন্তর মন্তর এলাকায় সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত কারণে রাজধানীর অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র কনট প্লেসের দোকানপাট, অফিস ও রেস্তোরাঁ নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, রাতে তাদের ওপর ধরপাকড় চালানো হতে পারে। তবে দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে এমন অভিযোগ নাকচ করে জানায়, রাতের বেলায় আন্দোলন দমনে কোনো বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই। একই সঙ্গে জনগণকে যাচাইবিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত যন্তর মন্তরের দেড় কিলোমিটার এলাকার মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রাখা হয়েছে। এর আগে বুধবার (২২ জুলাই) রাত থেকেই আন্দোলনস্থলের চারপাশে শক্তিশালী মোবাইল জ্যামার চালু করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় দিল্লি ও কনট প্লেস এলাকায় সংঘটিত একাধিক সহিংস ঘটনায় অন্তত ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এসিপি পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তাও রয়েছেন। এছাড়া মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কনট প্লেসে আন্দোলনের সময় র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (র্যাফ) ৪৫ বছর বয়সী এক সদস্যের ওপর লাঠি ও তলোয়ার দিয়ে হামলার অভিযোগও উঠেছে। বুধবার সন্ধ্যায় যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পর সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় নিউ দিল্লি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (এনডিটিএ) জরুরি নির্দেশনা জারি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যেই কনট প্লেস (রাজীব চক) এলাকার সব দোকানপাট, অফিস ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এনডিটিএ জানিয়েছে, নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (এনডিএমসি) থেকে সম্ভাব্য সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির বিষয়ে অবহিত করার পর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এবং সাধারণ মানুষের হতাহতের ঝুঁকি এড়ানো।
নিউ দিল্লি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অতুল ভার্গব বলেন, কনট প্লেস এলাকায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিল। কর্মচারী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আগেভাগে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

























