
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান (র.) মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিখোঁজ হওয়া সাত বছর বয়সী শিশু ফাতেমার মরদেহ প্রায় ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে মাজারের খাদেমরা রাতভর তল্লাশি চালিয়ে দিঘির মহিলা ঘাটের পূর্ব পাশ থেকে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে মহিলা ঘাট এলাকায় রাখা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নে অবস্থিত খানজাহান (র.) মাজারের দিঘির মহিলা ঘাট এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। গোসল করতে নামার সময় ফাতেমাকে একটি কুমির আক্রমণ করে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।
শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা দ্রুত নৌকা নিয়ে দিঘিতে নেমে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতভর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। তবে দীর্ঘ সময় চেষ্টার পরও তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাতেমা মাজার এলাকায় বসবাসরত এক বাকপ্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। প্রায় ছয় বছর আগে ওই নারী এক বছর বয়সী শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে এলাকায় এসে বসবাস শুরু করেন। তিনি বাকপ্রতিবন্ধী ও মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তাদের পূর্ণ পরিচয় জানা যায়নি।
ঘটনার পর থেকে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন শিশুটির মা। মেয়ের ব্যবহৃত একটি ওড়না ও পানির বোতল কোলে নিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় দিঘির ঘাটে নীরবে বসে ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মো. নাসের রিকাবদার এবং মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাজারে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যেও উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।























