ঢাকা ১২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে প্রশাসন

কেশবপুরে নদীভাঙনে চার বসতঘর বিলীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • / ৫২ বার পঠিত

যশোরের কেশবপুরে হরিহর নদ খননের পর টানা ভারী বর্ষণ ও নদীর পাড় ধসের কারণে বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় চারটি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে আকস্মিক এ ভাঙনের ঘটনায় অন্তত দুটি পরিবার তাদের শেষ আশ্রয় হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসানা খাতুন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের মাঝে শুকনো খাবারসহ জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হরিহর নদ খননের পর থেকেই নদীর দুই তীরের পাড় দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে টানা ভারী বর্ষণে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় পাড় ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। তারা নদীর তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

ক্ষতিগ্রস্ত বিল্লাহ হোসেন বলেন, “নদীর পাড় ধসে মুহূর্তের মধ্যে আমার বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। জীবনের সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, সেটাই বুঝতে পারছি না। সরকারের কাছে দ্রুত সহযোগিতা চাই।”

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ফারুক হোসেন বলেন, “বাড়িটিই ছিল আমাদের একমাত্র আশ্রয়। নদীভাঙনে সবকিছু হারিয়ে এখন আমরা অসহায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সহায়তা পেয়েছি, তবে স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা জরুরি।”

এদিকে টানা বর্ষণে কেশবপুর পৌর শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি জমতে শুরু করায় নতুন করে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসানা খাতুন বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকার রয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা এবং পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”

ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে প্রশাসন

কেশবপুরে নদীভাঙনে চার বসতঘর বিলীন

আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

যশোরের কেশবপুরে হরিহর নদ খননের পর টানা ভারী বর্ষণ ও নদীর পাড় ধসের কারণে বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় চারটি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে আকস্মিক এ ভাঙনের ঘটনায় অন্তত দুটি পরিবার তাদের শেষ আশ্রয় হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসানা খাতুন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের মাঝে শুকনো খাবারসহ জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হরিহর নদ খননের পর থেকেই নদীর দুই তীরের পাড় দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে টানা ভারী বর্ষণে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় পাড় ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। তারা নদীর তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

ক্ষতিগ্রস্ত বিল্লাহ হোসেন বলেন, “নদীর পাড় ধসে মুহূর্তের মধ্যে আমার বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। জীবনের সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, সেটাই বুঝতে পারছি না। সরকারের কাছে দ্রুত সহযোগিতা চাই।”

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ফারুক হোসেন বলেন, “বাড়িটিই ছিল আমাদের একমাত্র আশ্রয়। নদীভাঙনে সবকিছু হারিয়ে এখন আমরা অসহায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সহায়তা পেয়েছি, তবে স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা জরুরি।”

এদিকে টানা বর্ষণে কেশবপুর পৌর শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি জমতে শুরু করায় নতুন করে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসানা খাতুন বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকার রয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা এবং পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”