ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোর-ঢাকা রুটে প্রভাতী এক্সপ্রেস চালুসহ ছয় দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:৩০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৬ বার পঠিত

পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের আওতায় বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে প্রভাতী এক্সপ্রেস চালুসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে জেলা প্রশাসক, যশোরের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন কমিটির আহ্বায়ক কাওসার আলী ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, পদ্মা সেতু রেল প্রকল্প চালুর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে ঢাকায় দ্রুত ও সাশ্রয়ীভাবে যাতায়াতের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বেনাপোল-যশোর-ঢাকা রুটে বর্তমানে বিকেলে ট্রেন চলাচল করায় যাত্রীরা ঢাকায় দাপ্তরিক কাজ শেষ করে একই দিনে ফিরতে পারছেন না। অন্যদিকে, দর্শনা, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ এলাকার মানুষও পদ্মা সেতু রেলপথে ঢাকায় যাতায়াতের পর্যাপ্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির মতে, বেনাপোল স্থলবন্দরসহ যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সকালে ঢাকাগামী ট্রেন চালু করা হলে যাত্রীরা একই দিনে রাজধানীতে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে ফিরে আসতে পারবেন। এতে সময় ও যাতায়াত ব্যয় কমার পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার ওপর জনচাপ কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এ বিষয়ে এর আগে রেল উপদেষ্টা ও রেল সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ছয় দফা দাবিতে যা রয়েছে

কমিটির ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—বর্তমান ট্রেনের সময়সূচি বহাল রেখে বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে প্রভাতী এক্সপ্রেস চালু, ঢাকা ও খুলনায় প্রতিদিন যাতায়াত করে অফিস করার উপযোগী সময়সূচি নির্ধারণ, আন্তঃনগর ট্রেনে সাধারণ শ্রেণির বগি সংযোজন এবং মালামাল ও কৃষিপণ্য পরিবহনের উপযোগী বগির ব্যবস্থা করা।

এ ছাড়া ট্রেনের সাধারণ ভাড়া বাসভাড়ার চেয়ে কম রাখা, অনলাইন নিবন্ধনের বাইরে টিকিট সংগ্রহের বিকল্প ব্যবস্থা চালু এবং প্রবীণ নাগরিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকিটপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত ডাবল রেললাইন নির্মাণের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ট্রেনে ফুল, ফল, সবজি, মাছসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবহনের উপযোগী বগি সংযুক্ত করা হলে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। পাশাপাশি সাশ্রয়ী ভাড়া ও সহজে টিকিট পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের রেলভ্রমণ আরও সহজ হবে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের সমস্যা সমাধানে এসব দাবি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।

ট্যাগস :

যশোর-ঢাকা রুটে প্রভাতী এক্সপ্রেস চালুসহ ছয় দফা দাবি

আপডেট সময় : ১১:৩০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের আওতায় বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে প্রভাতী এক্সপ্রেস চালুসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে জেলা প্রশাসক, যশোরের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন কমিটির আহ্বায়ক কাওসার আলী ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, পদ্মা সেতু রেল প্রকল্প চালুর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে ঢাকায় দ্রুত ও সাশ্রয়ীভাবে যাতায়াতের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বেনাপোল-যশোর-ঢাকা রুটে বর্তমানে বিকেলে ট্রেন চলাচল করায় যাত্রীরা ঢাকায় দাপ্তরিক কাজ শেষ করে একই দিনে ফিরতে পারছেন না। অন্যদিকে, দর্শনা, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ এলাকার মানুষও পদ্মা সেতু রেলপথে ঢাকায় যাতায়াতের পর্যাপ্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির মতে, বেনাপোল স্থলবন্দরসহ যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সকালে ঢাকাগামী ট্রেন চালু করা হলে যাত্রীরা একই দিনে রাজধানীতে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে ফিরে আসতে পারবেন। এতে সময় ও যাতায়াত ব্যয় কমার পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার ওপর জনচাপ কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এ বিষয়ে এর আগে রেল উপদেষ্টা ও রেল সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ছয় দফা দাবিতে যা রয়েছে

কমিটির ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—বর্তমান ট্রেনের সময়সূচি বহাল রেখে বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে প্রভাতী এক্সপ্রেস চালু, ঢাকা ও খুলনায় প্রতিদিন যাতায়াত করে অফিস করার উপযোগী সময়সূচি নির্ধারণ, আন্তঃনগর ট্রেনে সাধারণ শ্রেণির বগি সংযোজন এবং মালামাল ও কৃষিপণ্য পরিবহনের উপযোগী বগির ব্যবস্থা করা।

এ ছাড়া ট্রেনের সাধারণ ভাড়া বাসভাড়ার চেয়ে কম রাখা, অনলাইন নিবন্ধনের বাইরে টিকিট সংগ্রহের বিকল্প ব্যবস্থা চালু এবং প্রবীণ নাগরিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকিটপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত ডাবল রেললাইন নির্মাণের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ট্রেনে ফুল, ফল, সবজি, মাছসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবহনের উপযোগী বগি সংযুক্ত করা হলে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। পাশাপাশি সাশ্রয়ী ভাড়া ও সহজে টিকিট পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের রেলভ্রমণ আরও সহজ হবে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের সমস্যা সমাধানে এসব দাবি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।