ঢাকা ১১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খানি’র গবেষণা

ঘর হারিয়ে খাদ্য অধিকারও হারাচ্ছে সাতক্ষীরার বাস্তুচ্যুত মানুষ

আব্দুর রশিদ, সাতক্ষীরা
  • আপডেট সময় : ১০:১৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২০ বার পঠিত

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে সাতক্ষীরা শহরের বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের ৭৪ দশমিক ৯ শতাংশ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নিরাপদ আবাসন, পর্যাপ্ত খাবার, নিয়মিত কর্মসংস্থান ও সরকারি সামাজিক সুরক্ষা ভাতা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন এসব পরিবারের অনেকে। ‘অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় কৌশলপত্র ২০২১’ গ্রহণের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এর সুফল বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনে প্রত্যাশিতভাবে পৌঁছায়নি বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়।

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার রয়েল গ্লাস কনভেনশন হলরুমে আয়োজিত ‘সহনশীলতার সূচনা নিজের ঘর থেকেই’ শীর্ষক বহুপক্ষীয় সংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি), পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান) এবং উন্নয়ন সংস্থা স্বদেশ যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে। এর আগে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সংলাপে বক্তারা বলেন, সিডর ও আইলার মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি ও জীবিকার উপায় হারিয়ে বহু মানুষ সাতক্ষীরা শহরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু বাস্তুচ্যুত হওয়ার পরও তাঁদের জীবনসংগ্রাম শেষ হয়নি। বরং নিরাপদ বাসস্থান, পর্যাপ্ত খাদ্য ও কর্মসংস্থানের অভাবে তাঁরা প্রতিনিয়ত নতুন সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন।

বক্তারা আরও বলেন, বাস্তুচ্যুতির পর খাদ্য অনিরাপত্তা কোনো সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়; বরং এটি দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে প্রতিরোধযোগ্য ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের খাদ্য ও বাসস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

সংলাপে সরকারি কর্মকর্তারা জানান, বস্তিতে বসবাসকারী যাঁরা এখনো বয়স্ক বা বিধবা ভাতার আওতায় আসেননি, তাঁদের তালিকা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া পৌর এলাকার বাইরের প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলো আবেদন করলে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবারপ্রতি সর্বোচ্চ দুই একর পর্যন্ত জমি বন্দোবস্তের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়।

উন্নয়ন সংস্থা স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্তের সভাপতিত্বে সংলাপটি সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট উন্নয়ন গবেষক ও সিইপিআরের নির্বাহী পরিচালক গৌরাঙ্গ নন্দী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হযরত আলী এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী জাহিদ পারভেজ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক ও ডেইলি স্টারের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জি, এখন টেলিভিশনের আহসান রাজীব, সময় টেলিভিশনের মমতাজ আহমেদ বাপী, দক্ষিণের মশাল’র সম্পাদক আশিক ইলাহী, বাংলা ট্রিবিউনের আসাদুজ্জামান সরদার, দৈনিক ভোরের বাণী’র মোকাররাম বিল্লাহ ইমনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

সংলাপে সরকারি কর্মকর্তারা আশ্বাস দেন, জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে সামাজিক সুরক্ষা ভাতার বাইরে থাকা যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি এবং প্রকৃত ভূমিহীনদের খাসজমি বন্দোবস্তের মাধ্যমে পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

ট্যাগস :

খানি’র গবেষণা

ঘর হারিয়ে খাদ্য অধিকারও হারাচ্ছে সাতক্ষীরার বাস্তুচ্যুত মানুষ

আপডেট সময় : ১০:১৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে সাতক্ষীরা শহরের বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের ৭৪ দশমিক ৯ শতাংশ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নিরাপদ আবাসন, পর্যাপ্ত খাবার, নিয়মিত কর্মসংস্থান ও সরকারি সামাজিক সুরক্ষা ভাতা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন এসব পরিবারের অনেকে। ‘অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় কৌশলপত্র ২০২১’ গ্রহণের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এর সুফল বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনে প্রত্যাশিতভাবে পৌঁছায়নি বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়।

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার রয়েল গ্লাস কনভেনশন হলরুমে আয়োজিত ‘সহনশীলতার সূচনা নিজের ঘর থেকেই’ শীর্ষক বহুপক্ষীয় সংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি), পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান) এবং উন্নয়ন সংস্থা স্বদেশ যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে। এর আগে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সংলাপে বক্তারা বলেন, সিডর ও আইলার মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি ও জীবিকার উপায় হারিয়ে বহু মানুষ সাতক্ষীরা শহরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু বাস্তুচ্যুত হওয়ার পরও তাঁদের জীবনসংগ্রাম শেষ হয়নি। বরং নিরাপদ বাসস্থান, পর্যাপ্ত খাদ্য ও কর্মসংস্থানের অভাবে তাঁরা প্রতিনিয়ত নতুন সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন।

বক্তারা আরও বলেন, বাস্তুচ্যুতির পর খাদ্য অনিরাপত্তা কোনো সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়; বরং এটি দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে প্রতিরোধযোগ্য ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের খাদ্য ও বাসস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

সংলাপে সরকারি কর্মকর্তারা জানান, বস্তিতে বসবাসকারী যাঁরা এখনো বয়স্ক বা বিধবা ভাতার আওতায় আসেননি, তাঁদের তালিকা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া পৌর এলাকার বাইরের প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলো আবেদন করলে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবারপ্রতি সর্বোচ্চ দুই একর পর্যন্ত জমি বন্দোবস্তের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়।

উন্নয়ন সংস্থা স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্তের সভাপতিত্বে সংলাপটি সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট উন্নয়ন গবেষক ও সিইপিআরের নির্বাহী পরিচালক গৌরাঙ্গ নন্দী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হযরত আলী এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী জাহিদ পারভেজ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক ও ডেইলি স্টারের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জি, এখন টেলিভিশনের আহসান রাজীব, সময় টেলিভিশনের মমতাজ আহমেদ বাপী, দক্ষিণের মশাল’র সম্পাদক আশিক ইলাহী, বাংলা ট্রিবিউনের আসাদুজ্জামান সরদার, দৈনিক ভোরের বাণী’র মোকাররাম বিল্লাহ ইমনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

সংলাপে সরকারি কর্মকর্তারা আশ্বাস দেন, জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে সামাজিক সুরক্ষা ভাতার বাইরে থাকা যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি এবং প্রকৃত ভূমিহীনদের খাসজমি বন্দোবস্তের মাধ্যমে পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।