জমে উঠেছে কেশবপুরের গড়ভাঙ্গা সুপারি হাট, জমজমাট কেনাবেচা
- আপডেট সময় : ০৮:০২:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৬ বার পঠিত

যশোরের কেশবপুর উপজেলার গড়ভাঙ্গা বাজারে জমে উঠেছে সুপারির হাট। সপ্তাহে তিন দিন, রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার বসে এ হাট। দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে সুপারি কেনাবেচা। মৌসুমের এ সময়ে হাটে স্থানীয় কৃষক, বিক্রেতা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হচ্ছে প্রাণচাঞ্চল্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যশোর অঞ্চলে সাধারণত সেপ্টেম্বর মাস থেকে সুপারি পাকতে শুরু করে। অক্টোবর মাসে পাকা সুপারি সংগ্রহ বাড়ে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে চলে ভরা মৌসুম। জানুয়ারি মাসে কিছু এলাকায় শেষ পর্যায়ের সুপারি পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ থেকে ১২০ দিন সুপারি সংগ্রহ ও বেচাকেনার মৌসুম থাকে। তবে জাত ও এলাকার ভিন্নতার কারণে সব গাছের সুপারি একই সময়ে পাকে না।
গড়ভাঙ্গা হাটে বর্তমানে ৫৫ গোণ্ডায় এক কুড়ি অর্থাৎ ২২০টি সুপারি হিসেবে বেচাকেনা হচ্ছে। আকার ও মানভেদে প্রতি কুড়ি পাকা সুপারি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে কাঁচা সুপারি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কুড়ি প্রায় ২০০ টাকায়।
স্থানীয় সুপারি বিক্রেতারা গৌতম দে জানান, এ বছর সুপারির ফলন তুলনামূলক কম হয়েছে। তবে বাজারে দামও আশানুরূপ নয়।
এদিকে কেশবপুরের খতিয়াখালি গ্রামের লক্ষণ দাস, উত্তম দাস ও আনন্দ দাস সুপারি ব্যবসার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। তাঁরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সুপারি সংগ্রহ করে পান-সুপারির খিলি তৈরির উপযোগী করতে প্রক্রিয়াজাত করেন। পরে এসব সুপারি ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, নোয়াখালী, পিরোজপুর ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, সুপারি সংগ্রহ, বাছাই, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহনের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। মৌসুমে হাটে বেচাকেনা বাড়লে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষেরও আয়-রোজগারের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
সব মিলিয়ে সুপারির মৌসুমকে ঘিরে গড়ভাঙ্গা বাজার এখন স্থানীয় কৃষক, বিক্রেতা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে। সপ্তাহের নির্ধারিত তিন দিন হাটে সুপারি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে জমে উঠছে বাজারের বাণিজ্যিক কার্যক্রম।
























