
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেজ কাকাউরিসকে পরাজিত করে বিজয়ী হন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মর্যাদাপূর্ণ এ পদের জন্য গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সমর্থন লাভ করেন বাংলাদেশের প্রার্থী।
সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমান বর্তমান (৮০তম) অধিবেশনের সভাপতি ও জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হবেন। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ৮১তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। একই মাসের ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কের সূচনা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ‘রেসিপ্রোক্যাল সাপোর্ট অ্যারেঞ্জমেন্ট’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আগেই জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে ৬০টিরও বেশি দেশের সমর্থন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছিল। আঞ্চলিক পালাক্রমে দায়িত্ব বণ্টনের নিয়ম অনুযায়ী এবারের সভাপতির পদটি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপের জন্য নির্ধারিত ছিল। বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস উভয়ই এ গ্রুপ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
জাতিসংঘে নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্বের সুবিধার্থে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপে বিভক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো— আফ্রিকান গ্রুপ, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপ, পূর্ব ইউরোপীয় গ্রুপ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় গ্রুপ এবং পশ্চিম ইউরোপীয় ও অন্যান্য গ্রুপ।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আফ্রিকান দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। পাশাপাশি পূর্ব ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকেও সমর্থন লাভ করে বাংলাদেশ।
চলতি বছরের শুরুতে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে বাংলাদেশের প্রার্থিতার বিষয়টি জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। প্রথমে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে এ পদের জন্য মনোনীত করা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার প্রয়াত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রায় চার দশক পর আবারও বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি এ মর্যাদাপূর্ণ পদে নির্বাচিত হলেন।























