ঢাকা ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পুশইন ঠেকাল বিজিবি,

জিরো লাইনে নারী-শিশুসহ ১০ জনের মানবেতর জীবন-যাপন

যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের ঠেলে পাঠানোর চেষ্টার পর ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু এখনও দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় দ্বিতীয় দিনের মতো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা।

সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা শেষ হয়। ফলে সীমান্তে আটকে পড়া এসব মানুষের অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। ক্ষুধা, আতঙ্ক ও প্রতিকূল পরিবেশে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানা গেছে।

রোববার (৩১ মে) গভীর রাতে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের উত্তরে সাদিপুর খড়ের মাঠ সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের গেট খুলে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাটি টের পেয়ে তা প্রতিহত করেন।

সীমান্তের ওপারের একটি সূত্র জানায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় কয়েকটি ট্রাকে করে অতিরিক্ত বিএসএফ সদস্য মোতায়েন করে প্রায় ১২০ জনকে সীমান্ত এলাকায় আনা হয়। পরে কয়েকটি দলে ভাগ করে ১০ থেকে ১২ জন করে বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়।

প্রথমে ভারতের জয়ন্তীপুর সীমান্ত দিয়ে বেনাপোলের সাদিপুর-রঘুনাথপুর সীমান্তে তাদের ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিজিবির বাধার মুখে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর রাতভর সীমান্তের বিভিন্ন কাঁটাতারের গেট খুলে একই ধরনের চেষ্টা চালানো হলেও সফল হতে পারেনি বিএসএফ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যেসব গেট দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হয়, তার আগে ওই এলাকার সীমান্ত সার্চলাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে টর্চ ও সার্চলাইট জ্বালিয়ে পুরো সীমান্ত এলাকা আলোকিত করে রাখেন এবং সতর্ক টহল জোরদার করেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, একাধিকবার ব্যর্থ হওয়ার পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাদিপুর সীমান্তের ১৯/এস-৬ পিলার এলাকায় আট থেকে ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে কাঁটাতারের বেড়া পার করে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিজিবি সদস্যরা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকায় তাদের আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করতে দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। বিএসএফ এখন পর্যন্ত তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়নি। তবে তাদের খাবার ও পানি সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিজিবি যশোর-৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, “এটি এমন একটি বিষয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। বিএসএফ দাবি করছে, এই লোকজন তাদের নয়। তবে ভিডিও ফুটেজ এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তাদের সীমান্তে এনে জড়ো করা হয়েছিল। তারপরও বিএসএফ বিষয়টি স্বীকার করছে না।”

তিনি আরও বলেন, “যদি ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকেন, তাহলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় তাদের হস্তান্তর করতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা তাদের গ্রহণ করবো। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কাউকে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।”

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ পুশইন ঠেকাতে অতিরিক্ত টহল, মাইকিং এবং নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুশইন ঠেকাল বিজিবি,

জিরো লাইনে নারী-শিশুসহ ১০ জনের মানবেতর জীবন-যাপন

আপডেট সময় : ০৬:৩১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের ঠেলে পাঠানোর চেষ্টার পর ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু এখনও দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় দ্বিতীয় দিনের মতো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা।

সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা শেষ হয়। ফলে সীমান্তে আটকে পড়া এসব মানুষের অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। ক্ষুধা, আতঙ্ক ও প্রতিকূল পরিবেশে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানা গেছে।

রোববার (৩১ মে) গভীর রাতে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের উত্তরে সাদিপুর খড়ের মাঠ সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের গেট খুলে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাটি টের পেয়ে তা প্রতিহত করেন।

সীমান্তের ওপারের একটি সূত্র জানায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় কয়েকটি ট্রাকে করে অতিরিক্ত বিএসএফ সদস্য মোতায়েন করে প্রায় ১২০ জনকে সীমান্ত এলাকায় আনা হয়। পরে কয়েকটি দলে ভাগ করে ১০ থেকে ১২ জন করে বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়।

প্রথমে ভারতের জয়ন্তীপুর সীমান্ত দিয়ে বেনাপোলের সাদিপুর-রঘুনাথপুর সীমান্তে তাদের ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিজিবির বাধার মুখে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর রাতভর সীমান্তের বিভিন্ন কাঁটাতারের গেট খুলে একই ধরনের চেষ্টা চালানো হলেও সফল হতে পারেনি বিএসএফ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যেসব গেট দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হয়, তার আগে ওই এলাকার সীমান্ত সার্চলাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে টর্চ ও সার্চলাইট জ্বালিয়ে পুরো সীমান্ত এলাকা আলোকিত করে রাখেন এবং সতর্ক টহল জোরদার করেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, একাধিকবার ব্যর্থ হওয়ার পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাদিপুর সীমান্তের ১৯/এস-৬ পিলার এলাকায় আট থেকে ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে কাঁটাতারের বেড়া পার করে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিজিবি সদস্যরা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকায় তাদের আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করতে দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। বিএসএফ এখন পর্যন্ত তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়নি। তবে তাদের খাবার ও পানি সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিজিবি যশোর-৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, “এটি এমন একটি বিষয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। বিএসএফ দাবি করছে, এই লোকজন তাদের নয়। তবে ভিডিও ফুটেজ এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তাদের সীমান্তে এনে জড়ো করা হয়েছিল। তারপরও বিএসএফ বিষয়টি স্বীকার করছে না।”

তিনি আরও বলেন, “যদি ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকেন, তাহলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় তাদের হস্তান্তর করতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা তাদের গ্রহণ করবো। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কাউকে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।”

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ পুশইন ঠেকাতে অতিরিক্ত টহল, মাইকিং এবং নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।