ঢাকা ০৩:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
স্কুল আছে, পথ নেই

নদী পাড়ি দিয়ে স্কুলে যাওয়া অনিশ্চিত মাছিনগরের শিশুদের ভবিষ্যৎ!

শিক্ষার অধিকার প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার হলেও যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ৬৪ নং চাকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী মাছিনগর এলাকার শিশুদের কাছে তা যেন এক অধরা স্বপ্ন। নদী পারাপারের কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় ওই এলাকার শতাধিক শিশু নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।

স্থানীয়রা জানান, মাছিনগর এলাকার শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ পার্শ্ববর্তী একটি নদী। কিন্তু সেখানে কোনো সেতু বা নৌকার ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ ঝুঁকি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি একটি বৃহৎ জনপদের শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও নদীটি শিক্ষার্থীদের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারছেন না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, “প্রতি বছরই মাছিনগর এলাকার শিশুরা ভর্তি হতে আসে। কিন্তু নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় আমরা তাদের ভর্তি নিতে পারি না। এতে যেকোনো দুর্ঘটনার দায়ভার এড়ানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।”

তিনি আরও জানান, বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে ইউপি সদস্যরা বলছেন, বর্তমানে এ বিষয়ে কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই।

অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, এলাকায় মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান। কিন্তু যাতায়াত সমস্যার কারণে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একজন অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য নদীতে একটি সেতু বা এলাকায় একটি ভালো স্কুল দরকার।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নদী পারাপারের নিরাপদ ব্যবস্থা বা বিকল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা না হলে এ অঞ্চলের শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে আরও দূরে সরে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুল আছে, পথ নেই

নদী পাড়ি দিয়ে স্কুলে যাওয়া অনিশ্চিত মাছিনগরের শিশুদের ভবিষ্যৎ!

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

শিক্ষার অধিকার প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার হলেও যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ৬৪ নং চাকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী মাছিনগর এলাকার শিশুদের কাছে তা যেন এক অধরা স্বপ্ন। নদী পারাপারের কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় ওই এলাকার শতাধিক শিশু নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।

স্থানীয়রা জানান, মাছিনগর এলাকার শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ পার্শ্ববর্তী একটি নদী। কিন্তু সেখানে কোনো সেতু বা নৌকার ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ ঝুঁকি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি একটি বৃহৎ জনপদের শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও নদীটি শিক্ষার্থীদের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারছেন না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, “প্রতি বছরই মাছিনগর এলাকার শিশুরা ভর্তি হতে আসে। কিন্তু নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় আমরা তাদের ভর্তি নিতে পারি না। এতে যেকোনো দুর্ঘটনার দায়ভার এড়ানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।”

তিনি আরও জানান, বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে ইউপি সদস্যরা বলছেন, বর্তমানে এ বিষয়ে কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই।

অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, এলাকায় মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান। কিন্তু যাতায়াত সমস্যার কারণে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একজন অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য নদীতে একটি সেতু বা এলাকায় একটি ভালো স্কুল দরকার।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নদী পারাপারের নিরাপদ ব্যবস্থা বা বিকল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা না হলে এ অঞ্চলের শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে আরও দূরে সরে যাবে।