ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেনে নিন যে দেশের ভিসা থাকলে ঘুরতে পারবেন ২২ দেশে

  • দর্পণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ২২ ভার পঠিত

বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে যুক্তরাজ্যের (ইউকে) ভিসা এখন শুধু ব্রিটেন ভ্রমণের অনুমতিপত্র নয়, বরং বিশ্বের একাধিক দেশ ঘুরে দেখার কার্যকর ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈধ ও ব্যবহৃত ইউকে ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিট থাকলে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশ, ভিসা অন অ্যারাইভাল বা সহজ শর্তে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায়।

ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ ইউকে ভিসাধারী বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা অন্তত ২২টি দেশে বিশেষ ভ্রমণ সুবিধা ভোগ করতে পারেন। ফলে একটি ভিসা ব্যবহার করেই একাধিক দেশ ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়, যা ভিসা ফি, সময় ও সামগ্রিক ভ্রমণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে।

বর্তমানে ইউকে ভিসাধারীদের জন্য সুবিধাজনক গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে আলবেনিয়া, সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো, নর্থ মেসিডোনিয়া, জর্জিয়া, তুরস্ক (ই-ভিসা সুবিধা), সৌদি আরব, মিশর, আজারবাইজান, মেক্সিকো, কোস্টারিকা, পানামা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, অ্যাঙ্গুইলা, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, তুর্কস অ্যান্ড কাইকোস দ্বীপপুঞ্জ, মরক্কোসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল।

এছাড়া ভিসার ধরন ও মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে আরও কিছু দেশে বিশেষ প্রবেশ সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশিদের জন্য শেনজেন ভিসা পাওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রথমবারের আবেদনকারীরা স্বল্পমেয়াদি ভিসা পান এবং প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনেও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের কারণে অনিশ্চয়তা থাকে।

এমন পরিস্থিতিতে ইউকে ভিসা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। একবার ভিসা পাওয়া গেলে শুধু যুক্তরাজ্য নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক দেশ ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়, যা পর্যটক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের মধ্যে আগ্রহ বাড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউকে ভিসার মাধ্যমে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোকে এক ভ্রমণ পরিকল্পনায় যুক্ত করে তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সফর সম্ভব। তবে ভিসা আবেদনকালে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আয়ের উৎস, পেশাগত তথ্য ও ভ্রমণ ইতিহাস সঠিকভাবে উপস্থাপন করা জরুরি। ভুয়া তথ্য বা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করলে ভিসা প্রত্যাখ্যানসহ ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বচ্ছ আর্থিক সক্ষমতা, সঠিক নথিপত্র এবং শক্তিশালী ভ্রমণ ইতিহাস থাকলে ইউকে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এতে এক ভিসায় একাধিক দেশ ভ্রমণের সুযোগ বাস্তবে রূপ নেয়।

তবে ভিসা ও প্রবেশ নীতিমালা সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জেনে নিন যে দেশের ভিসা থাকলে ঘুরতে পারবেন ২২ দেশে

আপডেট সময় : ০৮:৩৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে যুক্তরাজ্যের (ইউকে) ভিসা এখন শুধু ব্রিটেন ভ্রমণের অনুমতিপত্র নয়, বরং বিশ্বের একাধিক দেশ ঘুরে দেখার কার্যকর ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈধ ও ব্যবহৃত ইউকে ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিট থাকলে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশ, ভিসা অন অ্যারাইভাল বা সহজ শর্তে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায়।

ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ ইউকে ভিসাধারী বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা অন্তত ২২টি দেশে বিশেষ ভ্রমণ সুবিধা ভোগ করতে পারেন। ফলে একটি ভিসা ব্যবহার করেই একাধিক দেশ ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়, যা ভিসা ফি, সময় ও সামগ্রিক ভ্রমণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে।

বর্তমানে ইউকে ভিসাধারীদের জন্য সুবিধাজনক গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে আলবেনিয়া, সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো, নর্থ মেসিডোনিয়া, জর্জিয়া, তুরস্ক (ই-ভিসা সুবিধা), সৌদি আরব, মিশর, আজারবাইজান, মেক্সিকো, কোস্টারিকা, পানামা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, অ্যাঙ্গুইলা, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, তুর্কস অ্যান্ড কাইকোস দ্বীপপুঞ্জ, মরক্কোসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল।

এছাড়া ভিসার ধরন ও মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে আরও কিছু দেশে বিশেষ প্রবেশ সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশিদের জন্য শেনজেন ভিসা পাওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রথমবারের আবেদনকারীরা স্বল্পমেয়াদি ভিসা পান এবং প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনেও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের কারণে অনিশ্চয়তা থাকে।

এমন পরিস্থিতিতে ইউকে ভিসা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। একবার ভিসা পাওয়া গেলে শুধু যুক্তরাজ্য নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক দেশ ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়, যা পর্যটক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের মধ্যে আগ্রহ বাড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউকে ভিসার মাধ্যমে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোকে এক ভ্রমণ পরিকল্পনায় যুক্ত করে তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সফর সম্ভব। তবে ভিসা আবেদনকালে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আয়ের উৎস, পেশাগত তথ্য ও ভ্রমণ ইতিহাস সঠিকভাবে উপস্থাপন করা জরুরি। ভুয়া তথ্য বা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করলে ভিসা প্রত্যাখ্যানসহ ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বচ্ছ আর্থিক সক্ষমতা, সঠিক নথিপত্র এবং শক্তিশালী ভ্রমণ ইতিহাস থাকলে ইউকে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এতে এক ভিসায় একাধিক দেশ ভ্রমণের সুযোগ বাস্তবে রূপ নেয়।

তবে ভিসা ও প্রবেশ নীতিমালা সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।