ঢাকা ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফোর্সড লেবার ইস্যুতে

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

  • দর্পণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০১:০০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • ২৪ ভার পঠিত

জোরপূর্বক শ্রম (ফোর্সড লেবার) প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) এ প্রস্তাব প্রকাশ করেছে।

ইউএসটিআরের দাবি, তালিকাভুক্ত দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্য ও ইকুয়েডরসহ ১৫টি দেশ ও অঞ্চলের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। অন্যদিকে, তালিকাভুক্ত বাকি ৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকরা আন্তর্জাতিক বাজারে বৈষম্যমূলক প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

তবে কিছু নির্দিষ্ট পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের ক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণে কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ রাখার প্রস্তাবও দিয়েছে ইউএসটিআর। যদিও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত সাময়িক শুল্ক ব্যবস্থার মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত কয়েকটি শুল্ক বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এরপর নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় শুল্কনীতি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও নির্ধারিত হয়নি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফোর্সড লেবার ইস্যুতে

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট সময় : ০১:০০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

জোরপূর্বক শ্রম (ফোর্সড লেবার) প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) এ প্রস্তাব প্রকাশ করেছে।

ইউএসটিআরের দাবি, তালিকাভুক্ত দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্য ও ইকুয়েডরসহ ১৫টি দেশ ও অঞ্চলের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। অন্যদিকে, তালিকাভুক্ত বাকি ৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকরা আন্তর্জাতিক বাজারে বৈষম্যমূলক প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

তবে কিছু নির্দিষ্ট পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের ক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণে কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ রাখার প্রস্তাবও দিয়েছে ইউএসটিআর। যদিও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত সাময়িক শুল্ক ব্যবস্থার মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত কয়েকটি শুল্ক বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এরপর নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় শুল্কনীতি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও নির্ধারিত হয়নি।