ভারতে জেন-জি আন্দোলন ঠেকাতে নজরদারিতে শিক্ষার্থীরা
- আপডেট সময় : ০৭:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
- / ৩৪ বার পঠিত

ভারতে চলমান জেন-জি আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পুনরায় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি জোরদার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, স্থানীয় থানার পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের ফোন করা, হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন পাঠাতে বলা এবং বাড়িতে গিয়ে সতর্ক করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সমর্থিত শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রভাব এবার মুম্বাইয়েও ছড়িয়ে পড়েছে। শিবাজি পার্ক, চেম্বুর ও আজাদ ময়দানসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের ওপর স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত এবং আগে যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বা আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাদের কয়েকজনের দাবি, স্থানীয় থানা থেকে ফোন করে বাড়িতে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি স্ক্রিনশটেও দেখা গেছে, কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বিক্ষোভকারীদের নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন শেয়ার করতে বলেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শুধু ফোন বা বার্তার মাধ্যমেই নয়, মুম্বাই ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের বাড়িতেও পুলিশ যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে চলমান তদন্তের বিষয় জানানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে জনসমাবেশে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, আগে আটক হওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিভিন্ন থানায় পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এতে তল্লাশি বা নজরদারির সময় তাদের দ্রুত শনাক্ত করা সহজ হবে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব পদক্ষেপকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের ভাষ্য, তরুণদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হলে ভবিষ্যতে পাসপোর্ট পাওয়া, উচ্চশিক্ষায় ভর্তি কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের এমন পরিস্থিতি থেকে দূরে রাখতেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
তবে আন্দোলনকারীদের পক্ষে থাকা আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা পুলিশের এই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে লাইভ লোকেশন চাওয়া, যোগাযোগের ওপর নজরদারি এবং বাড়িতে গিয়ে সতর্ক করার মতো পদক্ষেপ সাধারণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার সীমা অতিক্রম করেছে।
তাদের মতে, এ ধরনের নজরদারি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরার সাংবিধানিক অধিকারের ওপর গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।
দিল্লিতে সিজেপির নেতৃত্বে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বুধবার টানা তৃতীয় দিনের মতো মুম্বাইয়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। অন্যদিকে, দিল্লির যন্তর মন্তরেও বৃহস্পতিবার সিজেপি সমর্থকদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।
আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে নিট-ইউজি ২০২৬-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।























