ঢাকা ১০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পাঁচ দিনের আল্টিমেটাম দিল প্রশাসন

সাজেক পরিস্থিতি নিরসনে প্রশাসনের সাথে অবরোধকারীদের বৈঠক

ভুবণ ত্রিপুরা, সাজেক
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৮:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২০ বার পঠিত

সাজেকের চলমান অস্থিরতা নিরসন, পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা এবং স্থানীয় জনগণের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি নিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারী অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা।

বৈঠকে চারটি দাবি পূরণে কাজ চলমান থাকার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। অন্য দাবিটি দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে এ জন্য পাঁচ দিনের সময় চাওয়া হয়েছে। তবে দাবিগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না হওয়ায় অবরোধ প্রত্যাহারে কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠন দুটি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ২৯৮ নম্বর খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, ২৯৯ নম্বর রাঙামাটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খান।

বৈঠকে সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতি, চলমান সড়ক অবরোধ, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পর্যটনশিল্পের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারী অ্যাসোসিয়েশনের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

সংগঠন দুটির দাবির মধ্যে রয়েছে, সাজেক এলাকা থেকে সন্ত্রাসীদের বিতাড়ন, নিরাপত্তার নামে সাধারণ মানুষের চলাচল ও স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে বাধা না দেওয়া, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের আচরণে জনসাধারণের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা। এ ছাড়া স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে নিয়মিত সমন্বয়ের দাবি জানানো হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, চারটি দাবি পূরণে কাজ চলমান থাকার কথা জানিয়েছে প্রশাসনের প্রতিনিধি দল। অপর দাবিটি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে সংগঠন দুটির কাছে পাঁচ দিনের সময় চাওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে অগ্রগতি পর্যালোচনার সুযোগ থাকলেও বৈঠকে অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও অবরোধের কারণে সাজেকের পর্যটন ব্যবসা, রিসোর্ট-হোটেল, পরিবহন খাত এবং স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। পর্যটন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে সাজেকের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটন কার্যক্রম পুনরায় সচল করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পাঁচ দফা দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সমাধান না আসা পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে রয়েছে সংগঠন দুটি।

ট্যাগস :

পাঁচ দিনের আল্টিমেটাম দিল প্রশাসন

সাজেক পরিস্থিতি নিরসনে প্রশাসনের সাথে অবরোধকারীদের বৈঠক

আপডেট সময় : ০৮:৩৮:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সাজেকের চলমান অস্থিরতা নিরসন, পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা এবং স্থানীয় জনগণের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি নিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারী অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা।

বৈঠকে চারটি দাবি পূরণে কাজ চলমান থাকার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। অন্য দাবিটি দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে এ জন্য পাঁচ দিনের সময় চাওয়া হয়েছে। তবে দাবিগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না হওয়ায় অবরোধ প্রত্যাহারে কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠন দুটি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ২৯৮ নম্বর খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, ২৯৯ নম্বর রাঙামাটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খান।

বৈঠকে সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতি, চলমান সড়ক অবরোধ, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পর্যটনশিল্পের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারী অ্যাসোসিয়েশনের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

সংগঠন দুটির দাবির মধ্যে রয়েছে, সাজেক এলাকা থেকে সন্ত্রাসীদের বিতাড়ন, নিরাপত্তার নামে সাধারণ মানুষের চলাচল ও স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে বাধা না দেওয়া, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের আচরণে জনসাধারণের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা। এ ছাড়া স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে নিয়মিত সমন্বয়ের দাবি জানানো হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, চারটি দাবি পূরণে কাজ চলমান থাকার কথা জানিয়েছে প্রশাসনের প্রতিনিধি দল। অপর দাবিটি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে সংগঠন দুটির কাছে পাঁচ দিনের সময় চাওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে অগ্রগতি পর্যালোচনার সুযোগ থাকলেও বৈঠকে অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও অবরোধের কারণে সাজেকের পর্যটন ব্যবসা, রিসোর্ট-হোটেল, পরিবহন খাত এবং স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। পর্যটন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে সাজেকের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটন কার্যক্রম পুনরায় সচল করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পাঁচ দফা দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সমাধান না আসা পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে রয়েছে সংগঠন দুটি।