ঢাকা ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ভাড়াসিমলাবাসীকে দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক Logo যশোরে টিম দূরন্তের উদ্যোগে পূজার উপহার বিতরণ Logo যশোরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ২ হাজার বিজিবি মোতায়েন Logo মাদকমুক্ত যুবসমাজ গড়তে খেলাধুলার বিকল্প নেই- সনি Logo গভীর রাত পর্যন্ত বাঘারপাড়ার পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে হামিদা পারভীন Logo মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির সুস্থতা কামনা Logo আশাশুনিতে দুর্গাপূজায় আনসার সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ Logo চিতলমারীতে নবম শ্রেণির ছাত্র নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার Logo যশোরে মুক্তেশ্বরী সাহিত্য পরিষদের ১৭৯তম মাসিক সাহিত্য সভা Logo নড়াইলে দলিল লেখকদের আস্থার জায়গাটা অটুট রাখতে চাই- সজল
ন্যায্যমূল্য পেয়ে খুশি কৃষক

সন্ধ্যা নামলেই জমে ওঠে শার্শার বাসাবাড়ি মুখি কচুর হাট

শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:২৯:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • / ১১২ বার পঠিত

দুপুর গড়াতেই বাড়তে শুরু করে মানুষের ভিড়। বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে শত শত বস্তাভর্তি মুখি কচু নিয়ে একে একে হাজির হন কৃষকেরা। কোথাও চলছে দরদাম, কোথাও ট্রাকে কচু তোলার ব্যস্ততা। সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল কৃষিপণ্যের বাণিজ্যকেন্দ্রে। এমনই চিত্র এখন যশোরের শার্শা উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি মুখি কচুর হাটে।

স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছে বাসাবাড়ি এখন মুখি কচুর অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার। প্রতিদিন শার্শার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পাশের ঝিকরগাছা উপজেলা থেকে কৃষকেরা এখানে কচু নিয়ে আসেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই কচু কিনে নিয়ে যান। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমেছে এবং কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাটে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা কচুভর্তি শত শত বস্তা। কোথাও চলছে দরদাম, কোথাও নমুনা দেখে কচু কেনাবেচা, আবার কোথাও নতুন ক্রেতার অপেক্ষায় বসে আছেন বিক্রেতারা। সন্ধ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেনদেনও বাড়তে থাকে।

কৃষক ফজলুর রহমান বলেন, আগে কচু বিক্রির জন্য বিভিন্ন বাজারে ঘুরতে হতো। এখন বাসাবাড়ি হাটেই পাইকাররা এসে কচু কিনে নিয়ে যান। এতে সময় ও পরিবহন খরচ—দুটোই কমেছে।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলা এলাকার কৃষক শওকত আলী। তিনি বলেন, “এই হাটে কচু নিয়ে এলে বিক্রি নিয়ে কোনো চিন্তা থাকে না। ক্রেতার অভাব হয় না, আবার তুলনামূলক ভালো দামও পাওয়া যায়।”

ব্যবসায়ীরা জানান, বাসাবাড়ির মুখি কচুর মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন এখান থেকে বিপুল পরিমাণ কচু ঢাকা, নাটোর, রাজশাহী, রংপুর, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে ভালো মানের মুখি কচু প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে মৌসুমের শেষ দিকে তা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিনুর রহমান বলেন, “এই হাটে কৃষক ও ব্যবসায়ী—উভয়েই লাভবান হচ্ছেন। কৃষকেরা সরাসরি তাদের উৎপাদিত কচু বিক্রি করতে পারছেন, আবার আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত কচু সহজেই সংগ্রহ করতে পারছি।”

তবে কচু পরিবহনে আসা ট্রাক, পিকআপ ও আলমসাধু চালকদের অভিযোগ, বাজার কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিটি ট্রাক থেকে ২০০ টাকা, পিকআপ থেকে ১০০ টাকা এবং আলমসাধু থেকে ৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। টাকা না দিলে লোডিংয়ে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাদের। এ বিষয়ে বাজার কমিটির সভাপতি রশিদ মীর বলেন, “আদায়কৃত অর্থ বাজারের মসজিদ ও সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় করা হয়।”

শার্শা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান বলেন, “বাসাবাড়ির মুখি কচুর হাট এখন শুধু একটি বাজার নয়, এটি এ অঞ্চলের কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। হাজারো কৃষক এই হাটকে কেন্দ্র করে লাভবান হচ্ছেন।”

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ১৮০ হেক্টর জমিতে মুখি কচুর আবাদ হয়েছে। উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে। আগামী বছরগুলোতে মুখি কচুর আবাদ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ন্যায্যমূল্য পেয়ে খুশি কৃষক

সন্ধ্যা নামলেই জমে ওঠে শার্শার বাসাবাড়ি মুখি কচুর হাট

আপডেট সময় : ০৯:২৯:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

দুপুর গড়াতেই বাড়তে শুরু করে মানুষের ভিড়। বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে শত শত বস্তাভর্তি মুখি কচু নিয়ে একে একে হাজির হন কৃষকেরা। কোথাও চলছে দরদাম, কোথাও ট্রাকে কচু তোলার ব্যস্ততা। সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল কৃষিপণ্যের বাণিজ্যকেন্দ্রে। এমনই চিত্র এখন যশোরের শার্শা উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি মুখি কচুর হাটে।

স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছে বাসাবাড়ি এখন মুখি কচুর অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার। প্রতিদিন শার্শার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পাশের ঝিকরগাছা উপজেলা থেকে কৃষকেরা এখানে কচু নিয়ে আসেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই কচু কিনে নিয়ে যান। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমেছে এবং কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাটে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা কচুভর্তি শত শত বস্তা। কোথাও চলছে দরদাম, কোথাও নমুনা দেখে কচু কেনাবেচা, আবার কোথাও নতুন ক্রেতার অপেক্ষায় বসে আছেন বিক্রেতারা। সন্ধ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেনদেনও বাড়তে থাকে।

কৃষক ফজলুর রহমান বলেন, আগে কচু বিক্রির জন্য বিভিন্ন বাজারে ঘুরতে হতো। এখন বাসাবাড়ি হাটেই পাইকাররা এসে কচু কিনে নিয়ে যান। এতে সময় ও পরিবহন খরচ—দুটোই কমেছে।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলা এলাকার কৃষক শওকত আলী। তিনি বলেন, “এই হাটে কচু নিয়ে এলে বিক্রি নিয়ে কোনো চিন্তা থাকে না। ক্রেতার অভাব হয় না, আবার তুলনামূলক ভালো দামও পাওয়া যায়।”

ব্যবসায়ীরা জানান, বাসাবাড়ির মুখি কচুর মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন এখান থেকে বিপুল পরিমাণ কচু ঢাকা, নাটোর, রাজশাহী, রংপুর, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে ভালো মানের মুখি কচু প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে মৌসুমের শেষ দিকে তা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিনুর রহমান বলেন, “এই হাটে কৃষক ও ব্যবসায়ী—উভয়েই লাভবান হচ্ছেন। কৃষকেরা সরাসরি তাদের উৎপাদিত কচু বিক্রি করতে পারছেন, আবার আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত কচু সহজেই সংগ্রহ করতে পারছি।”

তবে কচু পরিবহনে আসা ট্রাক, পিকআপ ও আলমসাধু চালকদের অভিযোগ, বাজার কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিটি ট্রাক থেকে ২০০ টাকা, পিকআপ থেকে ১০০ টাকা এবং আলমসাধু থেকে ৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। টাকা না দিলে লোডিংয়ে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাদের। এ বিষয়ে বাজার কমিটির সভাপতি রশিদ মীর বলেন, “আদায়কৃত অর্থ বাজারের মসজিদ ও সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় করা হয়।”

শার্শা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান বলেন, “বাসাবাড়ির মুখি কচুর হাট এখন শুধু একটি বাজার নয়, এটি এ অঞ্চলের কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। হাজারো কৃষক এই হাটকে কেন্দ্র করে লাভবান হচ্ছেন।”

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ১৮০ হেক্টর জমিতে মুখি কচুর আবাদ হয়েছে। উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে। আগামী বছরগুলোতে মুখি কচুর আবাদ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।