ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চিতলমারীতে প্রতিভা বিকাশে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র প্রস্তুতিমূলক সভা Logo চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা-অধিকারের অভিযান, ২০ হাজার টাকা জরিমানা Logo সাজেক পরিস্থিতি নিরসনে প্রশাসনের সাথে অবরোধকারীদের বৈঠক Logo ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার অর্থে ব্যক্তিগত অট্টালিকা তৈরির অভিযোগ Logo দীঘিনালায় ধাম্মাচারিয়া বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন Logo শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার সামগ্রী ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ Logo বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন দম্পতি ও দুই বছরের শিশু Logo সাতক্ষীরায় ছাত্রী শূন্য বিদ্যালয়ে বেতন-ভাতা উত্তোলন Logo বিএনপি নেতা সালমান তালিবকে দেখতে হাসপাতালে নুরুজ্জামান লিটন Logo যুবদল নেতা জাহিদের বাবাকে দেখতে গেলেন যুবদল নেতৃবৃন্দ
ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

সাতক্ষীরায় ছাত্রী শূন্য বিদ্যালয়ে বেতন-ভাতা উত্তোলন

জি এম সাগর হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৮:০৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১১ বার পঠিত

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমারী ইউনিয়নের শংকরকাটি খাদিজা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনো ছাত্রী না থাকলেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। একের পর এক জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকায় এই সংক্রান্ত দুর্নীতির খবর প্রকাশ পেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাগজে-কলমে বিদ্যালয়টির অস্তিত্ব ও শিক্ষক-কর্মচারীদের পদ বহাল থাকলেও বাস্তবে সেখানে কোনো ছাত্রীর উপস্থিতি নেই। দীর্ঘদিন ধরে ‘ছাত্রী শূন্য’ অবস্থায় থাকা এই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতি মাসে সরকারি কোষাগার থেকে লাখ লাখ টাকা বেতন-ভাতা তুলছেন, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একাধিক জাতীয় দৈনিকে এই অনিয়ম ও অর্থ অপচয়ের সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে। বিদ্যালয়টির বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্বয়ং শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সরকারের এত বড় একটি পদে থেকে এবং প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এখন ক্ষোভের তীর সরাসরি তার দিকেই যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অর্থের এমন অপচয় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যেখানে ছাত্রীর অভাবে স্কুল বন্ধ থাকার কথা, সেখানে কীভাবে বছরের পর বছর বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। তারা অবিলম্বে এই ভুয়া কার্যক্রম বন্ধ এবং তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এই বিষয়ে জানতে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সরকারি অর্থ আত্মসাতের এই মহোৎসব বন্ধে জেলা প্রশাসক ও শিক্ষা বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

ট্যাগস :

ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

সাতক্ষীরায় ছাত্রী শূন্য বিদ্যালয়ে বেতন-ভাতা উত্তোলন

আপডেট সময় : ০৮:০৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমারী ইউনিয়নের শংকরকাটি খাদিজা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনো ছাত্রী না থাকলেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। একের পর এক জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকায় এই সংক্রান্ত দুর্নীতির খবর প্রকাশ পেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাগজে-কলমে বিদ্যালয়টির অস্তিত্ব ও শিক্ষক-কর্মচারীদের পদ বহাল থাকলেও বাস্তবে সেখানে কোনো ছাত্রীর উপস্থিতি নেই। দীর্ঘদিন ধরে ‘ছাত্রী শূন্য’ অবস্থায় থাকা এই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতি মাসে সরকারি কোষাগার থেকে লাখ লাখ টাকা বেতন-ভাতা তুলছেন, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একাধিক জাতীয় দৈনিকে এই অনিয়ম ও অর্থ অপচয়ের সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে। বিদ্যালয়টির বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্বয়ং শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সরকারের এত বড় একটি পদে থেকে এবং প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এখন ক্ষোভের তীর সরাসরি তার দিকেই যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অর্থের এমন অপচয় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যেখানে ছাত্রীর অভাবে স্কুল বন্ধ থাকার কথা, সেখানে কীভাবে বছরের পর বছর বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। তারা অবিলম্বে এই ভুয়া কার্যক্রম বন্ধ এবং তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এই বিষয়ে জানতে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সরকারি অর্থ আত্মসাতের এই মহোৎসব বন্ধে জেলা প্রশাসক ও শিক্ষা বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।