ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডুমুরিয়ায় বাড়তি দামে দিশেহারা খেটে খাওয়া মানুষ

শেখ মাহতাব হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৪:২৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৮ বার পঠিত

খুলনার ডুমুরিয়া বাজারে চাল, ডাল, সয়াবিন তেল, মাছ, মাংস ও মুরগিসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যদিও আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে আসায় কিছু সবজির দাম কিছুটা কমেছে, তবুও সামগ্রিক বাজারব্যয়ে কোনো স্বস্তি ফেরেনি।

ডুমুরিয়া বাজার, খর্নিয়া বাজার, নতুন রাস্তা বাজার ও আবারো মাইল বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজারের এই চিত্র উঠে এসেছে। চাল: প্রতি কেজি গুটি চাল ৫০ টাকা, সুমন স্বর্ণ ৫৫ টাকা, ২৮ চাল ৫৫ টাকা এবং মিনিকেট ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত তিন মাসে পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা চালের দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

ডাল: মসুর ডাল প্রতি কেজি ১৫০ টাকা, হাইব্রিড মোটা ডাল ৯০ টাকা, ছোলা বুট ১১০ টাকা এবং অ্যাংকার ডাল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত তিন মাসে ডালের দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। তেল: খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ২১০ টাকা এবং এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিন মাস আগে যা যথাক্রমে ২০০-২০২ টাকা এবং ১৯৯ টাকা ছিল।

ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩১০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। (তিন মাস আগে ব্রয়লার ১৪০-১৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৪৭০-৫০০ টাকা ছিল)। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,০৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম: হালিপ্রতি ডিম ৪৪ টাকা এবং ডজন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডুমুরিয়া বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী জলিল মিয়া জানান, জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পণ্য আনা-নেওয়ার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। দূরপাল্লার ট্রাকে অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে, যা খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলছে।

চাল ব্যবসায়ী হামিদ বলেন, পাইকারি বাজারে বেশি দামে চাল কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে। তবে বাড়তি দামের কারণে ক্রেতারা এখন খুব মেপে ও হিসাব করে চাল কিনছেন।

বাজার করতে আসা দিনমজুর মতিউর রহমান, রিগান ও দুলাল পাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দিন আনি, দিন খাই। প্রতিদিন যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন। চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম বেশি। আয় তো আর বাজারদরের সঙ্গে বাড়ে না, এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

খুলনা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম জানান, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ালে বা মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করলে প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এই তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

ট্যাগস :

ডুমুরিয়ায় বাড়তি দামে দিশেহারা খেটে খাওয়া মানুষ

আপডেট সময় : ০৪:২৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

খুলনার ডুমুরিয়া বাজারে চাল, ডাল, সয়াবিন তেল, মাছ, মাংস ও মুরগিসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যদিও আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে আসায় কিছু সবজির দাম কিছুটা কমেছে, তবুও সামগ্রিক বাজারব্যয়ে কোনো স্বস্তি ফেরেনি।

ডুমুরিয়া বাজার, খর্নিয়া বাজার, নতুন রাস্তা বাজার ও আবারো মাইল বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজারের এই চিত্র উঠে এসেছে। চাল: প্রতি কেজি গুটি চাল ৫০ টাকা, সুমন স্বর্ণ ৫৫ টাকা, ২৮ চাল ৫৫ টাকা এবং মিনিকেট ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত তিন মাসে পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা চালের দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

ডাল: মসুর ডাল প্রতি কেজি ১৫০ টাকা, হাইব্রিড মোটা ডাল ৯০ টাকা, ছোলা বুট ১১০ টাকা এবং অ্যাংকার ডাল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত তিন মাসে ডালের দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। তেল: খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ২১০ টাকা এবং এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিন মাস আগে যা যথাক্রমে ২০০-২০২ টাকা এবং ১৯৯ টাকা ছিল।

ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩১০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। (তিন মাস আগে ব্রয়লার ১৪০-১৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৪৭০-৫০০ টাকা ছিল)। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,০৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম: হালিপ্রতি ডিম ৪৪ টাকা এবং ডজন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডুমুরিয়া বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী জলিল মিয়া জানান, জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পণ্য আনা-নেওয়ার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। দূরপাল্লার ট্রাকে অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে, যা খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলছে।

চাল ব্যবসায়ী হামিদ বলেন, পাইকারি বাজারে বেশি দামে চাল কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে। তবে বাড়তি দামের কারণে ক্রেতারা এখন খুব মেপে ও হিসাব করে চাল কিনছেন।

বাজার করতে আসা দিনমজুর মতিউর রহমান, রিগান ও দুলাল পাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দিন আনি, দিন খাই। প্রতিদিন যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন। চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম বেশি। আয় তো আর বাজারদরের সঙ্গে বাড়ে না, এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

খুলনা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম জানান, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ালে বা মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করলে প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এই তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।