ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কন্টেন্ট নির্মাণ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী নড়াইলের সৌরভ Logo জমে উঠেছে কেশবপুরের গড়ভাঙ্গা সুপারি হাট, জমজমাট কেনাবেচা Logo কোটালীপাড়ার ৯৫ বছরের বৃদ্ধের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo ডুমুরিয়ায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’র শুভ উদ্বোধন Logo দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ও গণপ্রতিরক্ষায় আনসার-ভিডিপির পেশাগত দক্ষতায় নতুন দিগন্ত Logo অঙ্গীভূত আনসারদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে: মহাপরিচালক Logo সান্তাহারে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার Logo সাতক্ষীরায় জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খানের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত Logo নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo যশোরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন

অঙ্গীভূত আনসারদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে: মহাপরিচালক

দর্পণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২০ বার পঠিত

গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণ-২০২৬-এর সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেছেন, দেশের পাঁচ হাজারের বেশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও কেপিআইয়ের (গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা) নিরাপত্তায় প্রায় ৫৫ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমি, সফিপুরে আয়োজিত সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি নবীন আনসার সদস্যদের সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা, শিল্পকারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষায় আনসার সদস্যদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

মহাপরিচালক বলেন, দেশের অর্থনীতি সচল রাখা, শিল্পকারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষায় অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়বে।

দায়িত্ব পালনকালে সরকারি জানমাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যেসব আনসার সদস্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং আহত হয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। মহাপরিচালক বলেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ডাকাতির চেষ্টা প্রতিহত করাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দুষ্কৃতিকারীদের অপতৎপরতা ঠেকাতে আনসার সদস্যরা সাহসিকতা, সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁদের এই অবদান বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা বাড়িয়েছে।

অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেস্ট প্রথা ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিজ বিভাগে বদলির সুযোগ সৃষ্টি এবং রেশনের মান ও পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাহিনীর সংস্কার ও সদস্যকল্যাণে নেওয়া উদ্যোগগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এতে প্রান্তিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তাঁদের ভূমিকা আরও সম্প্রসারিত হবে।

সদস্যদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হচ্ছে উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যাতে সদস্যদের প্রাপ্য ভাতা আত্মসাৎ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের প্রশিক্ষণকে আরও যুগোপযোগী করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সাধারণ ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ, অস্ত্র পরিচালনা, নিরাপত্তা পদ্ধতি, ইনসিডেন্ট ম্যানেজমেন্ট, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে বিস্তারিত শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

নবীন সদস্যদের উদ্দেশে মহাপরিচালক বলেন, আজ থেকে তাঁরা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গর্বিত সদস্য। এই পরিচয় যেমন সম্মানের, তেমনি রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেরও প্রতীক। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করে সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি তাঁদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ৬০ দিনব্যাপী অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণে অনুমোদিত ৬৯২ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ৬৫৪ জন অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ৬২৭ জন সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। প্রশিক্ষণে ফায়ারে প্রথম স্থান অর্জন করেন কুমিল্লা জেলার কাজী মো. আবু সাঈদ, ড্রিলে প্রথম হন নোয়াখালী জেলার মো. ফিজুর রহমান এবং সেরা প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচিত হন খাগড়াছড়ি জেলার মো. সাবিকুর রহমান। পরে মহাপরিচালক কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

কুচকাওয়াজের শেষ পর্যায়ে তুরস্কের জেন্ডারমেরি দলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় দাঙ্গা প্রতিরোধবিষয়ক একটি নিরাপত্তা মহড়া প্রদর্শন করা হয়। মহড়া শেষে মহাপরিচালক বলেন, যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আনসার ব্যাটালিয়ন, আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন ও অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা নিজস্ব সক্ষমতায় দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত। দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহিনীর সক্ষমতা রয়েছে। সম্প্রতি গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন মোকাবিলায়ও এ সক্ষমতার প্রতিফলন দেখা গেছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ, আনসার ও ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত মহাপরিচালক) মো. সাইফুল্লাহ রাসেল, তুরস্ক থেকে আগত প্রশিক্ষণসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষক এবং বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করায় একাডেমির কমান্ড্যান্ট, প্রশিক্ষকমণ্ডলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে মহাপরিচালক নবীন সদস্যদের কর্মজীবনের সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবন কামনা করেন।

ট্যাগস :

অঙ্গীভূত আনসারদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে: মহাপরিচালক

আপডেট সময় : ০৭:৩৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণ-২০২৬-এর সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেছেন, দেশের পাঁচ হাজারের বেশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও কেপিআইয়ের (গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা) নিরাপত্তায় প্রায় ৫৫ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমি, সফিপুরে আয়োজিত সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি নবীন আনসার সদস্যদের সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা, শিল্পকারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষায় আনসার সদস্যদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

মহাপরিচালক বলেন, দেশের অর্থনীতি সচল রাখা, শিল্পকারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষায় অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়বে।

দায়িত্ব পালনকালে সরকারি জানমাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যেসব আনসার সদস্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং আহত হয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। মহাপরিচালক বলেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ডাকাতির চেষ্টা প্রতিহত করাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দুষ্কৃতিকারীদের অপতৎপরতা ঠেকাতে আনসার সদস্যরা সাহসিকতা, সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁদের এই অবদান বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা বাড়িয়েছে।

অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেস্ট প্রথা ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিজ বিভাগে বদলির সুযোগ সৃষ্টি এবং রেশনের মান ও পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাহিনীর সংস্কার ও সদস্যকল্যাণে নেওয়া উদ্যোগগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এতে প্রান্তিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তাঁদের ভূমিকা আরও সম্প্রসারিত হবে।

সদস্যদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হচ্ছে উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যাতে সদস্যদের প্রাপ্য ভাতা আত্মসাৎ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের প্রশিক্ষণকে আরও যুগোপযোগী করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সাধারণ ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ, অস্ত্র পরিচালনা, নিরাপত্তা পদ্ধতি, ইনসিডেন্ট ম্যানেজমেন্ট, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে বিস্তারিত শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

নবীন সদস্যদের উদ্দেশে মহাপরিচালক বলেন, আজ থেকে তাঁরা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গর্বিত সদস্য। এই পরিচয় যেমন সম্মানের, তেমনি রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেরও প্রতীক। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করে সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি তাঁদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ৬০ দিনব্যাপী অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণে অনুমোদিত ৬৯২ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ৬৫৪ জন অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ৬২৭ জন সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। প্রশিক্ষণে ফায়ারে প্রথম স্থান অর্জন করেন কুমিল্লা জেলার কাজী মো. আবু সাঈদ, ড্রিলে প্রথম হন নোয়াখালী জেলার মো. ফিজুর রহমান এবং সেরা প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচিত হন খাগড়াছড়ি জেলার মো. সাবিকুর রহমান। পরে মহাপরিচালক কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

কুচকাওয়াজের শেষ পর্যায়ে তুরস্কের জেন্ডারমেরি দলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় দাঙ্গা প্রতিরোধবিষয়ক একটি নিরাপত্তা মহড়া প্রদর্শন করা হয়। মহড়া শেষে মহাপরিচালক বলেন, যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আনসার ব্যাটালিয়ন, আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন ও অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা নিজস্ব সক্ষমতায় দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত। দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহিনীর সক্ষমতা রয়েছে। সম্প্রতি গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন মোকাবিলায়ও এ সক্ষমতার প্রতিফলন দেখা গেছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ, আনসার ও ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত মহাপরিচালক) মো. সাইফুল্লাহ রাসেল, তুরস্ক থেকে আগত প্রশিক্ষণসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষক এবং বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করায় একাডেমির কমান্ড্যান্ট, প্রশিক্ষকমণ্ডলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে মহাপরিচালক নবীন সদস্যদের কর্মজীবনের সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবন কামনা করেন।