ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরে খালের মুখের অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:৪৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / ১০১ বার পঠিত

যশোরের কেশবপুর উপজেলার গড়ভাঙ্গা এলাকার আশাননগরের খালে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে কালভার্টের মুখে নির্মিত একটি অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (৮ জুন) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মেশকাতুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গড়ভাঙ্গা গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত আশাননগরের খালটি চাতরা ও সাড়াতলা বিলের মৎস্যঘের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী কামরুল বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে খালের কালভার্টের মুখে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ রেখে তা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছিলেন। এতে খালের স্বাভাবিক পানি চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিকাজ, মৎস্যচাষ এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের পানির সংকট দেখা দেয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় কেরামত গাজীর প্রায় ৩২৬ বিঘা আয়তনের মৎস্যঘেরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। ফলে সেখানে সংরক্ষিত মাছের চারা ক্ষতির মুখে পড়ে। একই সঙ্গে সেচের অভাবে স্থানীয় কৃষকরাও চাষাবাদে নানা দুর্ভোগের শিকার হন।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরে ভ্রাম্যমাণ অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ বাঁধটি অপসারণ করা হয়। অভিযানের ফলে খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, খালটি উন্মুক্ত হওয়ায় কৃষিকাজ, মৎস্যচাষ ও গৃহস্থালি কাজে প্রয়োজনীয় পানির সংকট অনেকাংশে দূর হবে।

উচ্ছেদ অভিযানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস, কেশবপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লক্ষণসহ পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো জরিমানা বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের দাবি, সরকারি খালের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মেশকাতুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে খালটির ওপর অবৈধ বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ ব্যাহত করা হচ্ছিল। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে আসার পর তাঁর নির্দেশনায় অভিযান পরিচালনা করে বাঁধটি অপসারণ করা হয়েছে। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার ফলে এলাকার কৃষক, মৎস্যচাষি ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারি জলাশয় ও খাল দখল কিংবা পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ট্যাগস :

কেশবপুরে খালের মুখের অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ

আপডেট সময় : ১২:৪৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

যশোরের কেশবপুর উপজেলার গড়ভাঙ্গা এলাকার আশাননগরের খালে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে কালভার্টের মুখে নির্মিত একটি অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (৮ জুন) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মেশকাতুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গড়ভাঙ্গা গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত আশাননগরের খালটি চাতরা ও সাড়াতলা বিলের মৎস্যঘের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী কামরুল বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে খালের কালভার্টের মুখে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ রেখে তা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছিলেন। এতে খালের স্বাভাবিক পানি চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিকাজ, মৎস্যচাষ এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের পানির সংকট দেখা দেয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় কেরামত গাজীর প্রায় ৩২৬ বিঘা আয়তনের মৎস্যঘেরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। ফলে সেখানে সংরক্ষিত মাছের চারা ক্ষতির মুখে পড়ে। একই সঙ্গে সেচের অভাবে স্থানীয় কৃষকরাও চাষাবাদে নানা দুর্ভোগের শিকার হন।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরে ভ্রাম্যমাণ অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ বাঁধটি অপসারণ করা হয়। অভিযানের ফলে খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, খালটি উন্মুক্ত হওয়ায় কৃষিকাজ, মৎস্যচাষ ও গৃহস্থালি কাজে প্রয়োজনীয় পানির সংকট অনেকাংশে দূর হবে।

উচ্ছেদ অভিযানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস, কেশবপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লক্ষণসহ পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো জরিমানা বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের দাবি, সরকারি খালের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মেশকাতুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে খালটির ওপর অবৈধ বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ ব্যাহত করা হচ্ছিল। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে আসার পর তাঁর নির্দেশনায় অভিযান পরিচালনা করে বাঁধটি অপসারণ করা হয়েছে। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার ফলে এলাকার কৃষক, মৎস্যচাষি ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারি জলাশয় ও খাল দখল কিংবা পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”