
শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশীয় মৌসুমি ফলের পরিচিতি, পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আবহমান বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরতে যশোর ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ব্যতিক্রমী গ্রীষ্মকালীন ফল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্কুল প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ ফল মেলা ও পরিচিতি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ১৪টি আকর্ষণীয় স্টল স্থাপন করা হয়।
স্টলগুলোতে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, জামরুল, পেঁপে, তালের শাঁস, কামরাঙা এবং বিলুপ্তপ্রায় মেওয়াসহ প্রায় ৪৫ প্রজাতির দেশীয় ও মৌসুমি ফল প্রদর্শন করা হয়। মেলায় স্কুলের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অভিভাবক ও স্থানীয় দর্শনার্থীরাও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফলের বাংলা ও ইংরেজি নাম, পুষ্টিগুণ এবং মানবদেহে এর উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মৌসুমি ফল দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।
ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যশোর শাখার অধ্যক্ষ প্রফেসর সারাফাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানভীর আহমাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. তানভীর আহমাদ বলেন, “সুস্থ জীবনই সফলতার ভিত্তি। সুস্থ থাকার জন্য সুষম ও পরিমিত খাদ্য গ্রহণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান অত্যন্ত জরুরি।” তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সরকারি মাহাতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে দেশীয় ফল, পরিবেশ ও প্রকৃতির সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রত্যেককে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে স্কুলের চেয়ারম্যান আবু ফয়সাল বলেন, “শিশুদের মৌসুমি ফলের সঙ্গে পরিচিত করা এবং এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতন করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। দেশীয় ফল আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর সারাফাত হোসেন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রশংসা করে বলেন, “শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, সৃজনশীলতা এবং ফল সংগ্রহের উদ্যোগ এ আয়োজনকে সফল করেছে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী সচিব গাউসুল আজম, পরিচালক মোস্তফা, রেজওয়ান হোসেনসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক শিক্ষক আব্দুল্লাহিল মুজাহিদ। উৎসবের শেষ পর্বে শিক্ষার্থীদের সাজানো ফলের স্টলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিচারকদের মূল্যায়নে সেরা স্টল নির্বাচিত করে বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।

























