জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অপমানিত হলাম’
ইমেরিটাস পদ বাতিলে ক্ষুব্ধ ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ
- আপডেট সময় : ১০:০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
- / ৩২ বার পঠিত

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর আজীবন নিয়োগ বাতিল এবং উত্তোলিত বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশকে ‘অন্যায়, অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ, বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেন দেশের খ্যাতিমান এই চিকিৎসক।
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, “বিশ্ব বা বাংলাদেশের ইতিহাসে আজীবন সম্মানসূচক নিয়োগ বাতিলের এমন নজির নেই। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন আচরণ আমাকে সামাজিকভাবে চরমভাবে অপমানিত করেছে।”
তিনি জানান, দীর্ঘ ৫০ বছরের চিকিৎসা জীবনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে তিনি ১৪ থেকে ১৫টি আন্তর্জাতিক ও একাডেমিক পুরস্কার, ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড এবং রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’ লাভ করেছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চিকিৎসাবিষয়ক গ্রন্থ ‘ডেভিডসন’ এবং ‘কুমার অ্যান্ড ক্লার্ক’-এর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে গুণীজনদের সম্মানসূচক পদমর্যাদা এভাবে বাতিল করার কোনো প্রচলিত নিয়ম নেই। আর্থিক ক্ষতির চেয়ে সম্মানহানির বিষয়টিই তাকে বেশি ব্যথিত করেছে।
তিনি বলেন, “এ পদে সম্মানীর পরিমাণ খুবই সামান্য ছিল। সম্ভবত ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু বিষয়টি টাকার নয়, সম্মানের। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করেছে।”
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কমিটির কোনো সদস্যের আপত্তির ভিত্তিতে আজীবন নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তার দাবি, এমন সিদ্ধান্তের কোনো আইনগত বা নীতিগত ভিত্তি নেই।
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ পুরো ঘটনাকে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের সততা ও অর্জনের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত আক্রমণ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “এটি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং সম্মানহানি এবং সুযোগ-সুবিধা কুক্ষিগত করার একটি হীন প্রচেষ্টা।”
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৯২তম বাজেট অধিবেশনে আলোচ্যসূচির বাইরে ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ’ সংশোধন করে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহকে আজীবন মেয়াদে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা বিধিবহির্ভূত ছিল।
পরবর্তীতে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার ওই নিয়োগ বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে ইমেরিটাস অধ্যাপক পদে দায়িত্ব পালনের সময় উত্তোলিত বেতন-ভাতাও ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



















