ওলামা লীগ নেতাসহ আটক ২
মনিরামপুরে কবিরাজির আড়ালে জাল টাকা তৈরির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৯:৪৮:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ৬২ বার পঠিত

যশোরের মণিরামপুরে কবিরাজির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকা তৈরির কারবার চালানোর অভিযোগে কুলটিয়া ইউনিয়ন ওলামা লীগের সভাপতি এমদাদুল হক কবিরাজ ও তাঁর সহযোগী আজিবুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তাঁদের আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি কম্পিউটার, প্রিন্টার, কিবোর্ড এবং কয়েকটি জাল ১ হাজার টাকার নোট জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এমদাদুল হক, তাঁর সহযোগী আজিবুর রহমান ও কম্পিউটার দোকানের মালিক মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। মফিজুর রহমান পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের কালার মোড়ের একটি দুইতলা ভবনে দীর্ঘদিন ধরে কবিরাজি ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন ডাঙ্গামহিষদিয়া গ্রামের বশির উদ্দিনের ছেলে এমদাদুল হক কবিরাজ। তিনি কুলটিয়া ইউনিয়ন ওলামা লীগের সভাপতি। তাঁর প্রধান সহযোগী হিসেবে পরিচিত আজিবুর রহমান যশোর সদর উপজেলার মাহিদিয়া গ্রামের মৃত আলতাফ বিশ্বাসের ছেলে। তিনি ডাঙ্গামহিষদিয়া বাজারে নওয়াব আলীর একটি দুইতলা বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কবিরাজির আড়ালে এমদাদুল হক ও আজিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে গোপনে জাল টাকা তৈরি ও কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম, হযরত আলী ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কালার মোড় এলাকার মৃত আনোয়ার গাজীর ছেলে মফিজুর রহমানের কম্পিউটার দোকানের সাটার বন্ধ করে ভেতরে জাল টাকা ছাপানো হচ্ছিল। বিষয়টি সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজন দোকানে অভিযান চালিয়ে আজিবুর রহমানকে হাতেনাতে আটক করেন। এ সময় এমদাদুল হক ও দোকানের মালিক মফিজুর রহমান কৌশলে পালিয়ে যান।
পরে শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে স্থানীয় লোকজন ডাঙ্গামহিষদিয়া এলাকা থেকে এমদাদুল হককেও আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে হেফাজতে নেয়।
মণিরামপুর থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান হাজরা বলেন, অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি কম্পিউটার, একটি প্রিন্টার, একটি কিবোর্ড এবং কয়েকটি ১ হাজার টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়েছে।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাল টাকা ছাপানোর সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ায় এমদাদুল হক, আজিবুর রহমান ও কম্পিউটার দোকানের মালিক মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। পলাতক মফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।





















