বিভিন্ন দাবিতে যশোরে বাংলাদেশ বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৮:২৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৫ বার পঠিত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম ও অবৈধ বাণিজ্য চুক্তি বাতিল এবং সার সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে যশোরে কর্মিসভা ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় যশোর শহরের দলীয় কার্যালয়ে সংগঠনটির জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গাজী আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন পলাশ বিশ্বাস। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড নজরুল ইসলাম।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ও যশোর জেলা সম্পাদক কমরেড তসলিম উর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড নাজিম উদ্দিন, জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মিজানুর রহমান, জেলা কমিটির নেতা অধ্যাপক ইসরারুল হক, সকিনা বেগম দিপ্তি, অভয়নগর উপজেলার নেতা চৈতন্য কুমার পাল এবং মণিরামপুর উপজেলা সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ যে অধিকার, স্বাধীনতা ও মর্যাদার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, তা উপেক্ষা করে কোনো বিদেশি শক্তির আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না। চট্টগ্রাম বন্দরের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাতীয় স্বার্থবিরোধী অসম বাণিজ্য চুক্তির সমালোচনা করেন তাঁরা।
বক্তারা সরকারের বোয়িং ও এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকারের নতজানু নীতি দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করছে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জনজীবনের সংকট তুলে ধরে নেতারা বলেন, সার, ডিজেল, পেট্রোলসহ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। অবিলম্বে সার সিন্ডিকেট ভেঙে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমে সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়ে বক্তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি করেন। পাশাপাশি ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিল, দেশের সার্বভৌম সম্পদের ওপর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনজীবনের সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সারা দেশে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে জবাব দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন তাঁরা।
কর্মিসভা শেষে দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি যশোর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

























