প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা
চুরির মামলা তুলে নিতে প্রবাসীর পরিবারকে হুমকি
- আপডেট সময় : ১০:০৪:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৮ বার পঠিত

যশোরের অভয়নগরে চুরির মামলা তুলে নিতে মালয়েশিয়া প্রবাসী হাবিবুর রহমানের স্ত্রী ও সন্তানদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মহিউল ইসলাম (২৬) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে প্রবাসীর স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও তৈরি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী শিরিনা বেগম (৩৭) যশোরের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত আবেদন করে চুরির মামলাটি নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত মহিউল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়া প্রবাসী হাবিবুর রহমানের স্ত্রী শিরিনা বেগম সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে শহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকেন। গত ৬ জুলাই দুপুরে ওই বাসার শয়নকক্ষের তালা খুলে আলমারির লকার থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা এবং প্রায় ছয় ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার চুরি হয়। চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে একটি নেকলেস, দুটি রুলি, চার জোড়া কানের দুল ও তিনটি আংটি ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁরা মহিউল ইসলামের বিরুদ্ধে সন্দেহের কারণ খুঁজে পান। এ ঘটনায় শিরিনা বেগম অভয়নগর থানায় মামলা করেন। মামলাটি ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে নথিভুক্ত হয়, যার নম্বর ১২। চুরির ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মহিউল ইসলাম গ্রেপ্তার হন এবং পরে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।
শিরিনা বেগমের অভিযোগ, মহিউল ইসলাম জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে মামলা তুলে নিতে তাঁকে বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছেন। গত ২৬ আগস্ট বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে প্রাইভেট পড়াতে যাওয়ার সময় নওয়াপাড়ায় ভাড়া বাসার সামনে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এ সময় তাঁকে হত্যার পাশাপাশি তাঁর ছেলে-মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শিরিনার দাবি, তিনি চিৎকার করলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে মুঠোফোনে কল করেও তাঁকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়। চুরির মামলা তুলে না নিলে তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের ক্ষতি করার পাশাপাশি তাঁর জিমেইল আইডি হ্যাক করে ব্যক্তিগত ছবিকে এআইয়ের মাধ্যমে অশ্লীল ছবি ও ভিডিওতে রূপান্তর করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েও প্রত্যাশিত প্রতিকার না পাওয়ার দাবি করে শিরিনা বেগম পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছেন। তিনি নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চুরির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং খোয়া যাওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে হাবিবুর রহমান বলেন, আমি বিদেশে থাকায় আমার নিকটাত্মীয় মহিউল আমাদের বাসার বিভিন্ন কাজকর্ম করতেন। বাড়িতে যাতায়াতের সুযোগে তিনি কৌশলে বাসার চাবি সংগ্রহ করেন বলে আমাদের সন্দেহ। পরিবারের সদস্যরা বাসায় না থাকার সুযোগে ঘরে ঢুকে টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি করা হয়েছে বলে আমরা অভিযোগ করেছি।
তিনি আরও বলেন, চুরির ঘটনায় পুলিশ ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্তকে আদালতে পাঠায়। কিন্তু জামিনে বের হওয়ার পর মামলা তুলে নিতে আমাকে, আমার স্ত্রী ও সন্তানদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর মাধ্যমেও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে আমরা মনে করছি। পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে দেশে ফিরে এসেছি। বর্তমানে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় আছি। প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।
শিরিনা বেগম বলেন, মহিউল তাঁদের নিকটাত্মীয় এবং পেশায় মিস্ত্রি। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম মেরামতসহ বিভিন্ন কাজে তিনি তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। সেই সুযোগে বাসার প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন তালার চাবি সংগ্রহ করে চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
তিনি বলেন, চুরির ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করা হলেও আমাদের টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার হয়নি। এখন মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার ছেলে-মেয়ে স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করে। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে আমি শঙ্কিত। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগের বিষয়ে মহিউল ইসলামের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই বাড়িতে যাতায়াতের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁরা আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন। পুলিশ আমাকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছিল। বর্তমানে আমি জামিনে আছি। ওই পরিবারকে কোনো হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়নি। আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান বলেন, চুরির ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর আসামিদের আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত চুরি হওয়া কোনো মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
হুমকি-ধমকির বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মামলা তুলে নিতে হুমকি ও ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।




















