ঢাকা ০৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চালক ও সাধারণ মানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

মোটরসাইকেলের সামনে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট বাধ্যতামূলক

শেখ মাহতাব হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৩:০৫:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৪ বার পঠিত

ডুমুরিয়া( খুলনা) সড়ক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মোটরসাইকেলের সামনে ও পেছনে দৃশ্যমান স্থানে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট যুক্ত করার বিষয়টি এখন টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।

বিআরটিএ ও ট্রাফিক বিভাগের এমন কড়াকড়ির পর সাধারণ মোটরসাইকেল চালক, মালিক এবং পথচারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই একে নিরাপত্তার স্বার্থে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, কেউ কেউ এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও হয়রানি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগের মতে, অনেক সময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত মোটরসাইকেল শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ অনেক বাইকে সামনে নম্বরপ্লেট থাকে না বা থাকলেও তা অস্পষ্ট বা শৈল্পিক ডিজাইনে ঢাকা থাকে। সামনে ও পেছনে উভয় দিকেই সঠিক মাপে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট থাকলে সিসি ক্যামেরা বা প্রক্ষাপটে সহজেই বাইক শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে অপরাধপ্রবণতা কমবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে।

এ বিষয়ে কথা হয় ডুমুরিয়া ও এর আশপাশের এলাকার বিভিন্ন মোটরসাইকেল চালক ও মালিকদের সঙ্গে। তাঁদের মন্তব্যে উঠে এসেছে নানা দিক, নিরাপত্তার পক্ষে ইতিবাচক মত।

নম্বরপ্লেট বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে স্থানীয় এক কলেজশিক্ষক বলেন, সড়কে বিশৃঙ্খলা ও অপরাধ রোধ করতে হলে আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি। মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট না থাকায় অতীতে অনেক অপরাধী পার পেয়ে গেছে। তাই এই নিয়মটি খুব ভালো, যদি এটি সঠিকভাবে সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর করা হয়।

হয়রানি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের শঙ্কা: তবে পেশাগত কাজে নিয়মিত মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী এক স্থানীয় সংবাদকর্মী ও চালক কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল নম্বরপ্লেটের দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে বা অনেক সময় ঠিকমতো না পাওয়ায় মানুষ ম্যানুয়াল প্লেট লাগায়। এখন হঠাৎ করে কড়াকড়ি করায় গ্যারেজে ভিড় বাড়ছে। পুলিশি চেকিংয়ের নামে যেন সাধারণ চালকদের অযথা হয়রানি করা না হয়, সেদিকে প্রশাসনের নজর রাখা দরকার।

শৈল্পিক নম্বরপ্লেট ও ফ্যাশনের ইতি: তরুণ প্রজন্মের অনেকেই বাইকের সামনে বা পেছনে নিজেদের নাম, পদবি বা বিভিন্ন স্টাইলিশ ফন্ট ব্যবহার করে নম্বরপ্লেট বসাতেন। নতুন এই কড়াকড়ির ফলে সেই প্রবণতা অনেকটাই কমে গেছে।

স্থানীয় এক মোটরসাইকেল মালিক জানান, আগে শখের বশে অনেকে ডিজাইন করে নম্বর লেখাতেন। এখন প্রশাসনের ভয়ে সবাই স্ট্যান্ডার্ড মাপের সাধারণ (ম্যানুয়াল) প্লেট লাগাতে বাধ্য হচ্ছেন।

এই নির্দেশনার পর স্থানীয় মোটর মেকানিক ও নম্বরপ্লেট তৈরির দোকানগুলোতে কাজের চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে। কারিগররা বলছেন, প্রতিদিন প্রচুর বাইকচালক এসে স্ট্যান্ডার্ড মাপের ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট তৈরি করে নিচ্ছেন।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে যানবাহন চালানো সকলের দায়িত্ব। তবে চালকদের মতে, নিয়ম বাস্তবায়নের পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্স বা অন্যান্য সেবামূলক প্রক্রিয়ার মতো নম্বরপ্লেট প্রাপ্তিও যেন সহজ ও ভোগান্তিমুক্ত হয়, সেদিকেও সংশ্লিষ্ট মহলের নজর দেওয়া উচিত।

ট্যাগস :

চালক ও সাধারণ মানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

মোটরসাইকেলের সামনে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট বাধ্যতামূলক

আপডেট সময় : ০৩:০৫:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ডুমুরিয়া( খুলনা) সড়ক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মোটরসাইকেলের সামনে ও পেছনে দৃশ্যমান স্থানে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট যুক্ত করার বিষয়টি এখন টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।

বিআরটিএ ও ট্রাফিক বিভাগের এমন কড়াকড়ির পর সাধারণ মোটরসাইকেল চালক, মালিক এবং পথচারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই একে নিরাপত্তার স্বার্থে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, কেউ কেউ এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও হয়রানি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগের মতে, অনেক সময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত মোটরসাইকেল শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ অনেক বাইকে সামনে নম্বরপ্লেট থাকে না বা থাকলেও তা অস্পষ্ট বা শৈল্পিক ডিজাইনে ঢাকা থাকে। সামনে ও পেছনে উভয় দিকেই সঠিক মাপে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট থাকলে সিসি ক্যামেরা বা প্রক্ষাপটে সহজেই বাইক শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে অপরাধপ্রবণতা কমবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে।

এ বিষয়ে কথা হয় ডুমুরিয়া ও এর আশপাশের এলাকার বিভিন্ন মোটরসাইকেল চালক ও মালিকদের সঙ্গে। তাঁদের মন্তব্যে উঠে এসেছে নানা দিক, নিরাপত্তার পক্ষে ইতিবাচক মত।

নম্বরপ্লেট বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে স্থানীয় এক কলেজশিক্ষক বলেন, সড়কে বিশৃঙ্খলা ও অপরাধ রোধ করতে হলে আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি। মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট না থাকায় অতীতে অনেক অপরাধী পার পেয়ে গেছে। তাই এই নিয়মটি খুব ভালো, যদি এটি সঠিকভাবে সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর করা হয়।

হয়রানি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের শঙ্কা: তবে পেশাগত কাজে নিয়মিত মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী এক স্থানীয় সংবাদকর্মী ও চালক কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল নম্বরপ্লেটের দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে বা অনেক সময় ঠিকমতো না পাওয়ায় মানুষ ম্যানুয়াল প্লেট লাগায়। এখন হঠাৎ করে কড়াকড়ি করায় গ্যারেজে ভিড় বাড়ছে। পুলিশি চেকিংয়ের নামে যেন সাধারণ চালকদের অযথা হয়রানি করা না হয়, সেদিকে প্রশাসনের নজর রাখা দরকার।

শৈল্পিক নম্বরপ্লেট ও ফ্যাশনের ইতি: তরুণ প্রজন্মের অনেকেই বাইকের সামনে বা পেছনে নিজেদের নাম, পদবি বা বিভিন্ন স্টাইলিশ ফন্ট ব্যবহার করে নম্বরপ্লেট বসাতেন। নতুন এই কড়াকড়ির ফলে সেই প্রবণতা অনেকটাই কমে গেছে।

স্থানীয় এক মোটরসাইকেল মালিক জানান, আগে শখের বশে অনেকে ডিজাইন করে নম্বর লেখাতেন। এখন প্রশাসনের ভয়ে সবাই স্ট্যান্ডার্ড মাপের সাধারণ (ম্যানুয়াল) প্লেট লাগাতে বাধ্য হচ্ছেন।

এই নির্দেশনার পর স্থানীয় মোটর মেকানিক ও নম্বরপ্লেট তৈরির দোকানগুলোতে কাজের চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে। কারিগররা বলছেন, প্রতিদিন প্রচুর বাইকচালক এসে স্ট্যান্ডার্ড মাপের ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট তৈরি করে নিচ্ছেন।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে যানবাহন চালানো সকলের দায়িত্ব। তবে চালকদের মতে, নিয়ম বাস্তবায়নের পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্স বা অন্যান্য সেবামূলক প্রক্রিয়ার মতো নম্বরপ্লেট প্রাপ্তিও যেন সহজ ও ভোগান্তিমুক্ত হয়, সেদিকেও সংশ্লিষ্ট মহলের নজর দেওয়া উচিত।