গোপালগঞ্জে অনিয়ম অব্যবস্থাপনায় চলছে মহিলা দাখিল মাদ্রাসা
- আপডেট সময় : ০৯:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ২০ বার পঠিত

গোপালগঞ্জে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিকে সঙ্গী করেই চলছে উলপুর মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। এমনই তথ্য পাওয়া গেছে ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর ইউনিয়নের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সকল অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি কর্মের আশ্রয় প্রশ্রয় ও নেতৃত্ব দিচ্ছেন ওই প্রতিষ্ঠানের সুপার এ. কে. এম সাইফুল্লাহ। পাশাপাশি তিনি উলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে ভাড়া বাসায় কোচিং সেন্টার খুলেছেন। সেখানে মাদ্রাসার ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করেন এবং গাইড বই বিক্রয় করেন। যে সকল ছাত্রীরা কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়না এবং গাইড বই কিনে না তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করারও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও তিনি গত ২০২৩ সালে মাদ্রাসার অসহায়, দুস্থ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক কর্মচারীদের মাঝে অনুদান হিসেবে বিতরণের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পেয়েছিল। তৎকালীন সময়ে তিনি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে কোন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক- কর্মচারীদের মাঝে বিতরণ না করে ভূয়া তালিকা ও বিল ভাউচার তৈরি করে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও সুপারের আশ্রয় প্রশ্রয়ে চাকরির পাশাপাশি লাইব্রেরীর ব্যবসা, প্রতারণার ও নানাবিধ অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করে চলেছেন আইসিটি শিক্ষক রাসেল চৌধুরী। এই শিক্ষকের নামে রয়েছে একাধিক প্রতারণা ও চেক জালিয়াতির মামলা।
এছাড়াও কয়েক বছর পূর্বে এই শিক্ষকের নামে প্রাকটিক্যাল পরীক্ষায় বেশি নম্বর দেওয়ার প্রলভোনে দেখিয়ে মাদ্রাসার ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল।
মাদ্রাসার একটি গোপন সূত্রে জানা গেছে আইসিটি শিক্ষক রাসেল প্রতি মাসে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ দিন লাইব্রেরী ব্যবসায় সময় দেওয়া, মামলার হাজিরা ও ব্যক্তিগত কাজের প্রয়োজনে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকলেও সুপার তাকে হাজিরা খাতায় নিয়মিত উপস্থিত দেখান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসার এক স্টাফ জানান, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতে সুপার এবং আইসিটি শিক্ষকই যথেষ্ট । তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে ধিরে ধিরে মাদ্রাসাটির ক্ষতি করছেন।
সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য এলাকাবাসীরা বলেছেন, এই মাদ্রাসাটির বেশ কয়েকজন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম- অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি করে আসছে। এদের বিষয়ে তদন্ত করলে অনেক গোপন অনিয়ম ও অপকর্মের প্রমান পাওয়া যাবে।
আইসিটি শিক্ষক রাসেল চৌধুরী বলেন, আমি কখনোই মাদ্রাসা ফাঁকি দেই না। লাইব্রেরীটি আমার ছেলের নামে, ছেলেই পরিচালনা করে, আমি কখনোই লাইব্রেরীতে সময় দেই না।
এসকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সুপার এ. কে. এম সাইফুল্লাহ প্রাইভেট পড়ানো ও গাইড বই বিক্রয়ের কথা স্বীকার করলেও তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেলিম তালুকদার বলেন, এই মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিষয়ে আগেও অভিযোগ শুনেছি। আপনারা যে তথ্য গুলো পেয়েছেন উল্লেখ করে সংবাদ আকারে প্রকাশ করুন। আমি জেলা মাধ্যমিক স্যারের সাথে পরামর্শ করে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্ৰহন করবো।























