ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এক সপ্তাহে ৩ মামলা, ৪৩ আসামি, গ্রেপ্তার নেই

পাচারকাণ্ডে বেনাপোল বন্দরে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • / ৫৮ বার পঠিত

বেনাপোল স্থলবন্দরের শেড থেকে আমদানি পণ্য পাচার ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে আরও দুটি মামলা দায়ের করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। নতুন এ দুটি মামলায় বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধি ও আমদানিকারকসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে একই ঘটনায় প্রায় ৬ কোটি টাকার আমদানি পণ্য পাচারের অভিযোগে আরও একটি মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়। ফলে এক সপ্তাহে দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় মোট ৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

কাস্টমস সূত্র জানায়, বন্দর থেকে পাচার হওয়া পণ্যের ঘটনায় প্রায় ৭ কোটি টাকার মালামাল পাচার এবং প্রায় ৩ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় আড়াই কোটি টাকা রাজস্ব পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষকে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ভারতের একটি চালানে ‘ব্রেকিং পাউডার’ ঘোষণা দিয়ে প্রায় ৬ কোটি টাকার শাড়ি ও থ্রি-পিস আমদানি করে শাফা ইমপেক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। পণ্যগুলো বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে সংরক্ষণ করা হলেও পরে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান হুদা এন্টারপ্রাইজ শুল্ক ফাঁকি দিয়ে তা পাচারের চেষ্টা করে। কাস্টমস চালানটি আটক করে হেফাজতে রাখলেও পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে সেটি বন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বন্দরের ৪১ নম্বর শেড থেকেও ২৫ টন পণ্য পাচার ও বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৪ জুন কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান ও কাজী নাঈম উদ্দীন পৃথক দুটি মামলায় ২৪ জনকে আসামি করে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেন। এর আগে ৯ জুন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাহামুদুল আরেফিন আরও একটি মামলায় ১৯ জনকে আসামি করেন। এদিকে কাস্টমসের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বন্দর, কাস্টমস বা ব্যবসায়ী—কারও অপরাধ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, “মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। যেকোনো মূল্যে এ ধরনের অপরাধ দমন করা হবে।”

বেনাপোল পোর্ট থানার উপপরিদর্শক রাশেদুজ্জামান জানান, তিনটি মামলার তদন্ত চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কঠোর নিরাপত্তা ও সিসিটিভি নজরদারির মধ্যেও বন্দর থেকে পণ্য পাচারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনা গেলে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হবে না।

এক সপ্তাহে ৩ মামলা, ৪৩ আসামি, গ্রেপ্তার নেই

পাচারকাণ্ডে বেনাপোল বন্দরে তোলপাড়

আপডেট সময় : ০৮:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

বেনাপোল স্থলবন্দরের শেড থেকে আমদানি পণ্য পাচার ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে আরও দুটি মামলা দায়ের করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। নতুন এ দুটি মামলায় বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধি ও আমদানিকারকসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে একই ঘটনায় প্রায় ৬ কোটি টাকার আমদানি পণ্য পাচারের অভিযোগে আরও একটি মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়। ফলে এক সপ্তাহে দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় মোট ৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

কাস্টমস সূত্র জানায়, বন্দর থেকে পাচার হওয়া পণ্যের ঘটনায় প্রায় ৭ কোটি টাকার মালামাল পাচার এবং প্রায় ৩ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় আড়াই কোটি টাকা রাজস্ব পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষকে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ভারতের একটি চালানে ‘ব্রেকিং পাউডার’ ঘোষণা দিয়ে প্রায় ৬ কোটি টাকার শাড়ি ও থ্রি-পিস আমদানি করে শাফা ইমপেক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। পণ্যগুলো বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে সংরক্ষণ করা হলেও পরে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান হুদা এন্টারপ্রাইজ শুল্ক ফাঁকি দিয়ে তা পাচারের চেষ্টা করে। কাস্টমস চালানটি আটক করে হেফাজতে রাখলেও পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে সেটি বন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বন্দরের ৪১ নম্বর শেড থেকেও ২৫ টন পণ্য পাচার ও বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৪ জুন কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান ও কাজী নাঈম উদ্দীন পৃথক দুটি মামলায় ২৪ জনকে আসামি করে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেন। এর আগে ৯ জুন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাহামুদুল আরেফিন আরও একটি মামলায় ১৯ জনকে আসামি করেন। এদিকে কাস্টমসের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বন্দর, কাস্টমস বা ব্যবসায়ী—কারও অপরাধ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, “মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। যেকোনো মূল্যে এ ধরনের অপরাধ দমন করা হবে।”

বেনাপোল পোর্ট থানার উপপরিদর্শক রাশেদুজ্জামান জানান, তিনটি মামলার তদন্ত চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কঠোর নিরাপত্তা ও সিসিটিভি নজরদারির মধ্যেও বন্দর থেকে পণ্য পাচারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনা গেলে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হবে না।