শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আজও বাস্তবায়িত হয়নি
যশোরে কমরেড দিপু, মহিউদ্দিন, হায়দার ও ঝর্ণার স্মরণসভা
- আপডেট সময় : ০৮:৪৮:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৬ বার পঠিত

মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হলেও শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন আজও বাস্তবায়িত হয়নি। শহীদ কমরেড দিপু, মহিউদ্দিন, হায়দার ও ঝর্ণারা যে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন পূরণে আজও লড়াই চালিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের নেতারা।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের যশোর জেলা কার্যালয়ে চার শহীদের স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের যশোর জেলা সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম নেতা কমরেড তসলিম-উর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নেতা ও যশোর জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড নাজিম উদ্দিন শহীদ, কমরেড দিপুর ছোট ভাই ও বিপ্লবী স্মৃতি রক্ষা কমিটির অন্যতম সদস্য আবুল বাশার সাইফউদ্দৌলা, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদের আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ এবং লেখক মফিজুর রহমান রুন্নু।
আলোচনায় বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দেশের বামপন্থী আন্দোলনে নেতাকর্মীদের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত না হওয়ায় নতুন করে শোষণ বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে রক্ষীবাহিনীর হাতে স্বাধিকার আন্দোলনের অনেক বামপন্থী নেতা, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষ প্রাণ হারান।
বক্তারা আরও বলেন, শহীদ কমরেড দিপু, মহিউদ্দিন, হায়দার ও ঝর্ণারা একটি শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও শ্রমজীবী মানুষের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু তাঁদের সেই স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি। সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের কাছে নতজানু রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও শ্রমজীবী মানুষের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।
কমরেড দিপুর সংগ্রামী জীবন
উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালের কৃষক বিদ্রোহের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং শহীদ আবু বকরের স্মৃতিকে ধারণ করে ১৯৪৭ সালের ২৯ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন কমরেড দিপু। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, এম এম কলেজের ছাত্রদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন)-এর সদর মহকুমা সভাপতি ও জেলা সম্মেলনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে কালরাত্রির পর নড়াইল ও যশোরের শালিখা, খাজুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টির প্রতিরোধ বাহিনীর হয়ে অস্ত্র হাতে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন কমরেড দিপু। শালিখা থানা আক্রমণসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক অভিযানে নেতৃত্ব দেন তিনি।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত পুলিশ, রক্ষীবাহিনী ও মুজিব বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যেও শ্রমিক-কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
১৯৭৪ সালের ৪ নভেম্বর, কোরবানির ঈদের চার দিন আগে মায়ের হাতের শেষ খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন কমরেড দিপু। এরপর কোটচাঁদপুরে দলের একটি গোপন সভায় রক্ষীবাহিনীর অতর্কিত হামলায় কমরেড দিপু, মহিউদ্দিন, হায়দার ও ঝর্ণাসহ কয়েকজন কমরেড নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
স্মরণসভায় বক্তারা চার শহীদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামী জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।




















