ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করিমগঞ্জের বালিখলা ফেরিঘাটে যাত্রী ছাউনির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলা-র গুরুত্বপূর্ণ বালিখলা ফেরিঘাট-এ যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পরিষদ। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উজ্জ্বল, ফজলুল রহমান, শাহ আলম, কুতুব উদ্দিন, বাজার কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালিখলা ফেরিঘাট করিমগঞ্জ, ইটনা উপজেলা, মিঠামইন উপজেলা ও অষ্টগ্রাম উপজেলা-সহ বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ ঘাট ব্যবহার করলেও এতদিন সেখানে যাত্রীদের বসা বা আশ্রয়ের কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা ছিল না। ফলে রোদ-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো।

ইটনা উপজেলার বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদির বলেন, যাত্রী ছাউনি নির্মিত হলে সাধারণ মানুষ অনেক উপকৃত হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান বলেন, হাওরাঞ্চলের লাখো মানুষের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ করতে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে সরকারি জায়গায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যাত্রী ছাউনির সঙ্গে আধুনিক টয়লেট ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধাও রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ আরও স্বাচ্ছন্দ্যে সেবা গ্রহণ করতে পারেন। পাশাপাশি ঘাট এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করতেও এ অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন পুলিশ সুপার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে তার কাছে মনে হয়েছে। এছাড়া জেলা পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ১৫ থেকে ২০টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ৩০ থেকে ৪০টি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে এলাকাবাসী আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করে যাত্রী ছাউনিটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ঘাট এলাকায় নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

করিমগঞ্জের বালিখলা ফেরিঘাটে যাত্রী ছাউনির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

আপডেট সময় : ০৬:১৯:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলা-র গুরুত্বপূর্ণ বালিখলা ফেরিঘাট-এ যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পরিষদ। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উজ্জ্বল, ফজলুল রহমান, শাহ আলম, কুতুব উদ্দিন, বাজার কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালিখলা ফেরিঘাট করিমগঞ্জ, ইটনা উপজেলা, মিঠামইন উপজেলা ও অষ্টগ্রাম উপজেলা-সহ বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ ঘাট ব্যবহার করলেও এতদিন সেখানে যাত্রীদের বসা বা আশ্রয়ের কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা ছিল না। ফলে রোদ-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো।

ইটনা উপজেলার বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদির বলেন, যাত্রী ছাউনি নির্মিত হলে সাধারণ মানুষ অনেক উপকৃত হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান বলেন, হাওরাঞ্চলের লাখো মানুষের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ করতে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে সরকারি জায়গায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যাত্রী ছাউনির সঙ্গে আধুনিক টয়লেট ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধাও রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ আরও স্বাচ্ছন্দ্যে সেবা গ্রহণ করতে পারেন। পাশাপাশি ঘাট এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করতেও এ অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন পুলিশ সুপার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে তার কাছে মনে হয়েছে। এছাড়া জেলা পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ১৫ থেকে ২০টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ৩০ থেকে ৪০টি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে এলাকাবাসী আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করে যাত্রী ছাউনিটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ঘাট এলাকায় নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।