আদালতে মামলা
যশোরে তালাকের তথ্য গোপন করে প্রবাসীর সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৭:১০:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪৪ বার পঠিত

যশোরের ঝিকরগাছায় তালাকের তথ্য গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর বাসা থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন তাঁর ভাই সাইদুল ইসলাম। এ ঘটনায় কনক আক্তার নামের এক নারীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার নালিশি বিবরণী সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় পেনাল কোডের ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬(২) ধারায় ঝিকরগাছা আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর সিআর ৭৪৩/২৬। এ ছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা মালামাল ও অর্থ উদ্ধারের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৮ ধারায় সার্চ ওয়ারেন্ট জারির আবেদন জানিয়ে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক মামলা করেছেন বাদী। ওই মামলার নম্বর পি ৮৬৭/২৬।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, প্রবাসী হাবিবুর রহমানের সঙ্গে ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর কনক আক্তারের বিয়ে হয়। পরে ২০২৪ সালের ৬ মার্চ তালাক দেওয়া হলেও অভিযুক্ত নারী বিষয়টি স্বামীর কাছে গোপন রেখে দীর্ঘদিন তাঁর বাসায় অবস্থান করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, এ সময় বাসার চাবি, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র, স্বর্ণালংকার, পোশাক, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী এবং ভাড়ার টাকাসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় ৩৩ লাখ টাকার সম্পদ আত্মসাৎ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এর ধারাবাহিকতায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ভ্যানে করে বাসা থেকে মূল্যবান মালামাল ও নগদ অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়।
মামলার বিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২ অক্টোবর বাদী অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। এ সময় অভিযুক্ত তাঁকে তালাকের বিষয়টি জানান এবং ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বাদী টাকা ও মালামাল ফেরত চাইলে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা সাক্ষীদের অপমান-অপদস্থ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রবাসী হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, আমি বিশ্বাস করে স্ত্রীর নিকট আমার কষ্টার্জিত অর্থ-সম্পদ পাঠিয়েছি। আমার স্ত্রী আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে অর্থ সম্পদ নিয়ে আমাকে তালাক দিয়েছে। সে আমার সাথে প্রতারণা করেছে। আমি এর ন্যায়বিচার চাই।
মামলার বাদী সাইদুল ইসলাম জানান, আমার ভাই প্রবাসী। প্রবাসে থেকে তার স্ত্রীর নিকট সমস্ত টাকা-পয়সা পাঠিয়েছে। আমার ভাবী গোপনে ভাইকে তালাক দিয়ে তার সম্পদ লুট করার জন্য আমাদের বাড়িতে বসবাস করছিল। বসবাসকালে সে টাকা-পয়সা, জিনিসপত্র আত্মসাত করেছে। আমার ভাই প্রবাসে থাকায় তার পক্ষে আমি আদালতে মামলা করেছি। আইনের প্রতি আমার পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাস আছে। আশা করি, আমরা ন্যায় বিচার পাবো।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কনক আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ২০২৩ সালে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর পারিবারিক ঝামেলায় আমি আমার স্বামী হাবিবুরকে তালাক প্রদান করি। তালাক প্রদানের ৩মাসের মধ্যে আমার স্বামী আমাকে বুঝিয়ে আপোষ করে আমাকে নিয়ে সংসার করে। আপোষনামা করায় পুনরায় কাজী অফিসে আমাদের বিয়ে হয়নি। সেইভাবে চলছিল সংসার। কিন্তু আমার স্বামী আমার আগের ঘরের মেয়েকে কুপ্রস্তাব দেওয়ায় আমি তাকে ছেড়ে চলে আসি। আমি চলে আসার পর আমার নামে অপপ্রচার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঝিকরগাছা থানায় উভয় পক্ষের মধ্যে বসাবসি হয়েছিল। তবে মালামাল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, মামলায় উল্লেখ করা ঘটনাগুলোর বিবরণ মিথ্যা। আমি কোন টাকা-পয়সা বা সম্পদ নিয়ে আসিনি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের পরবর্তী আদেশ বা মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

























