ঢাকা ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
লুটপাটের অভিযোগ

শার্শায় জমি বিরোধে একই পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে জখম

আলমগীর হোসেন
  • আপডেট সময় : ১১:১০:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৩ বার পঠিত

যশোরের শার্শায় জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের চারজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, একটি বিদেশি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা লুটের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সোনানদীয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন সোনানদীয়া গ্রামের মৃত আতিয়ার রহমানের ছেলে প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম (৪৮), তাঁর স্ত্রী জোহরা খাতুন (৪০), ছেলে উজ্জ্বল হোসেন (২৫) ও ছেলের স্ত্রী জুঁই খাতুন (২০)। তাঁদের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে শার্শা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

আহত জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে সোনানদীয়া গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে তহিদুলের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকায় বসতভিটার ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি কিনে ভোগদখলে রয়েছেন তিনি। কিন্তু বিক্রির পর ওই জমির সামনের অংশ থেকে ০ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি তহিদুল গোপনে গ্রামের এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী আসমা বেগমের কাছে আবারও বিক্রি করেন।

একই জমি দুইবার বিক্রির বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ করলে তহিদুল তাঁকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন জাহাঙ্গীর আলম।

তাঁর অভিযোগ, বুধবার বেলা ১১টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসাদুজ্জামান ও তহিদুলের নির্দেশে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র, রামদা, হাতুড়ি ও মোটরসাইকেলের ডাম্পার নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়।

হামলাকারীদের মধ্যে সোনানদীয়া গ্রামের রনি আহম্মেদ (৩০), সজিব হোসেন (৩০), টুটুল হোসেন (৩৫), শাকিল হোসেন (২৮), নূরনবী (২০), তপু হোসেন (২৭), মিন্নু হোসেন (৩০) ও সামাউল (২০) ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁকে, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও ছেলের স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এবং রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পরে পরিবারের সদস্যরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তদের মধ্যে রনি আহম্মেদের বিরুদ্ধে শার্শা থানায় একাধিক মামলা ও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিয়মিত অস্ত্র বহন করেন বলেও দাবি করেন তাঁরা। এছাড়া নূরনবী সোনানদীয়া ভাটার মোড়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আহত উজ্জ্বল হোসেন অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা বাড়িতে থাকা ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ও একটি বিদেশি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে গেছে। এ সময় বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষতি করা হয়। হামলাকারীরা প্রতিবেশী তাইজুল ডাক্তারের বাড়িতেও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, হামলার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হামলাকারীদের ভয়ে তাঁরা বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আহতদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা মামলা করলে তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

লুটপাটের অভিযোগ

শার্শায় জমি বিরোধে একই পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে জখম

আপডেট সময় : ১১:১০:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

যশোরের শার্শায় জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের চারজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, একটি বিদেশি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা লুটের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সোনানদীয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন সোনানদীয়া গ্রামের মৃত আতিয়ার রহমানের ছেলে প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম (৪৮), তাঁর স্ত্রী জোহরা খাতুন (৪০), ছেলে উজ্জ্বল হোসেন (২৫) ও ছেলের স্ত্রী জুঁই খাতুন (২০)। তাঁদের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে শার্শা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

আহত জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে সোনানদীয়া গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে তহিদুলের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকায় বসতভিটার ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি কিনে ভোগদখলে রয়েছেন তিনি। কিন্তু বিক্রির পর ওই জমির সামনের অংশ থেকে ০ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি তহিদুল গোপনে গ্রামের এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী আসমা বেগমের কাছে আবারও বিক্রি করেন।

একই জমি দুইবার বিক্রির বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ করলে তহিদুল তাঁকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন জাহাঙ্গীর আলম।

তাঁর অভিযোগ, বুধবার বেলা ১১টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসাদুজ্জামান ও তহিদুলের নির্দেশে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র, রামদা, হাতুড়ি ও মোটরসাইকেলের ডাম্পার নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়।

হামলাকারীদের মধ্যে সোনানদীয়া গ্রামের রনি আহম্মেদ (৩০), সজিব হোসেন (৩০), টুটুল হোসেন (৩৫), শাকিল হোসেন (২৮), নূরনবী (২০), তপু হোসেন (২৭), মিন্নু হোসেন (৩০) ও সামাউল (২০) ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁকে, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও ছেলের স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এবং রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পরে পরিবারের সদস্যরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তদের মধ্যে রনি আহম্মেদের বিরুদ্ধে শার্শা থানায় একাধিক মামলা ও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিয়মিত অস্ত্র বহন করেন বলেও দাবি করেন তাঁরা। এছাড়া নূরনবী সোনানদীয়া ভাটার মোড়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আহত উজ্জ্বল হোসেন অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা বাড়িতে থাকা ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ও একটি বিদেশি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে গেছে। এ সময় বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষতি করা হয়। হামলাকারীরা প্রতিবেশী তাইজুল ডাক্তারের বাড়িতেও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, হামলার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হামলাকারীদের ভয়ে তাঁরা বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আহতদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা মামলা করলে তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।