বাঘারপাড়ায় সরকারি খাস জমিতে গোডাউন নির্মাণ
- আপডেট সময় : ০৬:৩৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৬ বার পঠিত

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জয়নগর গ্রামে সরকারি খাস জমিতে মাটি ভরাট করে ব্যক্তিগত গোডাউন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ ও জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গ্রামবাসী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জয়নগর ঈদগাহের পাশের একটি ব্রিজের নিচ দিয়ে গ্রামের পানি নিষ্কাশন হয়। ব্রিজসংলগ্ন সরকারি খাস জমিতে মাটি ভরাট করে গোডাউন নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। একই সঙ্গে জনসাধারণের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে আরও দুর্ভোগের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, জয়নগর গ্রামের মৃত আজির মোল্যার ছেলে আখের আলী সরকারি খাস জমি ভোগদখলে রেখে সেখানে মাটি ভরাট করে গোডাউন নির্মাণ করছেন। তাঁকে বারবার নিষেধ করা হলেও তিনি নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি তাঁদের। অভিযুক্তের বক্তব্য জানতে তাঁর বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে তদন্ত করেন ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, সরকারি জায়গা ও পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ করে ঘর নির্মাণের বিষয়ে সরেজমিনে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে জায়গাটি ইছালী মৌজার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তাঁর দপ্তর থেকে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সদর ও বাঘারপাড়া ভূমি অফিসের সার্ভেয়রদের মাধ্যমে জমির সীমানা পরিমাপ করা হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। এরপর ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন অনুযায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
এদিকে, গ্রামবাসী রেজাউল, আমছেল ও গোলাম রসুল সাংবাদিকদের বলেন, আখের আলীকে আমরা বারবার নিষেধ করেছি। কিন্তু তিনি আমাদের কথা না শুনে সরকারি রাস্তার ওপর গোডাউনঘর নির্মাণ করছেন। এতে এলাকাবাসীর চলাচল ও পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চাই।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত জমির সীমানা নির্ধারণ করে সরকারি খাস জমির প্রকৃত অবস্থা যাচাই করতে হবে। সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করা হয়ে থাকলে তা উদ্ধারের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের পথ ও জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে।
জনদুর্ভোগ নিরসন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
























