টিপসইয়ের বাণিজ্য আর এক দালাল আটক
কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুদকের আকস্মিক অভিযান
- আপডেট সময় : ১০:৩০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫৬ বার পঠিত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে এক আকস্মিক ঝটিকা অভিযানে অফিস চত্বর থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকাসহ রাকিব নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
দলিল রেজিস্ট্রি বা টিপসই নেওয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অবৈধ অর্থ আদায়ের এক চাঞ্চল্যকর চিত্র এই অভিযানে উন্মোচিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে জমির দলিল বা নানা কাগজপত্রে টিপসই কিংবা স্বাক্ষর দেওয়ার প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট অংকের টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযান চলাকালে দুদক টিম ছদ্মবেশে বা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অফিসের ভেতরে তৎপরতা চালায়। এ সময় রাকিব নামের ওই ব্যক্তিকে ৪ হাজার ৩০০ টাকাসহ আটক করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, উদ্ধারকৃত এই অর্থ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক বা অনৈতিক উপায়ে আদায় করা হয়েছিল। তবে এই টাকার নির্দিষ্ট উৎস এবং তা ঠিক কার কার পকেটে যেত, সে বিষয়ে গভীর তদন্ত শুরু করেছে দুদক।
আটকের পর তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন অভিযুক্ত রাকিব। তিনি প্রথমে দাবি করেন যে, অফিসের সাব-রেজিস্ট্রারের মৌখিক নির্দেশ ও কথামতোই তিনি এই টাকাগুলো সংগ্রহ করতেন। তবে পরবর্তীতে তিনি স্বীকার করেন যে এভাবে টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।
এদিকে, সাব-রেজিস্ট্রারের সরাসরি ইন্ধনে এই দুর্নীতি চলছে কি না, তা নিয়ে চারদিকে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্বাধীনভাবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চালাচ্ছে দুদক।
অভিযান চলাকালে দুদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা আকস্মিক সাব-রেজিস্ট্রারকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, আপনার গোপন অ্যাকাউন্ট আছে?
দুদক কর্মকর্তার এই একটিমাত্র প্রশ্ন মুহূর্তের মধ্যে পুরো অফিস চত্বরে চরম চাঞ্চল্য ও থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি করে। উপস্থিত সেবাগ্রহীতা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে শুরু হয় নানামুখী ফিসফিসানি। ঠিক কী ধরনের দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য বা ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে ওই প্রশ্ন করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দুদক টিম কিছু না জানালেও ধারণা করা হচ্ছে, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের আর্থিক লেনদেনের গভীর কোনো অনিয়মের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আটক রাকিবকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধারকৃত আলামত বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
দুদকের এই সাঁড়াশি অভিযান কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতিবাজ চক্রের মনে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, কেবল একজন দালালকে আটকে সীমাবদ্ধ না থেকে, এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করে আইনের আওতায় আনা হোক।

























