
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ১৩নং মাছিহাতা ইউনিয়নের চান্দপুর এলাকায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে সেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় দায়ের করা মামলা নম্বর-৪৫ (বার্ষিক নম্বর-৩৯২) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১)/৩০ ধারায় রেকর্ড করা হয়। মামলায় ইমন চৌধুরী (২১) ও দেলোয়ার চৌধুরী (৩৭) নামের দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী লিজা আক্তার (১৯) অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট ইসলামী শরিয়া মোতাবেক ইয়াকুব চৌধুরীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের ২১ দিন পর তার স্বামী কর্মসূত্রে সৌদি আরব চলে যান। স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর তার দেবর ইমন চৌধুরী (২১) বিভিন্ন সময় তাকে কুপ্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৮ জুন ২০২৬ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চান্দপুর এলাকায় অভিযুক্তদের বসতঘরের একটি কক্ষে ভুক্তভোগী অবস্থান করছিলেন। এ সময় ইমন চৌধুরী জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে ১৩নং মাছিহাতা ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার চৌধুরী (৩৭) ঘটনাস্থলের বাইরে অবস্থান করে সহযোগিতা করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার পর তিনি তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করেন। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালানো হলেও তা ব্যর্থ হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ১৭ জুন মামলাটি আদালতে প্রেরণ করা হয়। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলামের ওপর। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।


















