ঢাকা ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আলিপুরে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী সামির সোয়েব রাদমি Logo সাতক্ষীরায় হ্যাচারির কার্যকরী রং নিয়ে মতবিনিময় সভা Logo বেনাপোল বন্দরে তুলার বেল ছিঁড়ে গুরুতর আহত হাসান Logo গোপালগঞ্জে অনিয়ম অব্যবস্থাপনায় চলছে মহিলা দাখিল মাদ্রাসা Logo ভোজগাতীতে এলজিইডির লটারির মাধ্যমে নারীকর্মী বাছাই কার্যক্রম Logo চিতলমারীতে প্রতিভা বিকাশে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র প্রস্তুতিমূলক সভা Logo চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা-অধিকারের অভিযান, ২০ হাজার টাকা জরিমানা Logo সাজেক পরিস্থিতি নিরসনে প্রশাসনের সাথে অবরোধকারীদের বৈঠক Logo ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার অর্থে ব্যক্তিগত অট্টালিকা তৈরির অভিযোগ Logo দীঘিনালায় ধাম্মাচারিয়া বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন

জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৩৮

দর্পণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • / ৭২ বার পঠিত

দেশে গত জুন মাসে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ৫৬১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৬ জন শিশু ও ৪৪ জন নারী রয়েছেন। একই সময়ে ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৪ জন, যা মোট নিহতের প্রায় ৩১ শতাংশ। রোববার (৫ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মাসিক দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ছিল ৩০ দশমিক ৭২ শতাংশ। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় ৯১ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। একই সময়ে যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৭ জন। সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি জুন মাসে দেশে ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ২১টি রেলপথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৭ জন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী নিহত হয়েছেন ১৩৪ জন। এছাড়া থ্রি-হুইলারের (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান ও মিশুক) যাত্রী নিহত হয়েছেন ১১২ জন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রলির আরোহী ৩৭ জন, বাসের যাত্রী ২৭ জন, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের আরোহী ১৪ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের ১৫ জন এবং রিকশা ও সাইকেলের আরোহী ৮ জন।

প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মোট দুর্ঘটনার মধ্যে ১৫১টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৯৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬৪টি গ্রামীণ সড়কে, ৫৭টি শহরের সড়কে এবং ৬টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে। দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে নিয়ন্ত্রণ হারানো (৪৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ), মুখোমুখি সংঘর্ষ (২৩ দশমিক ৯ শতাংশ), পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া (২০ দশমিক ৫৫ শতাংশ) এবং যানবাহনের পেছনে ধাক্কা দেওয়া (১১ দশমিক ২২ শতাংশ)।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এতে নিহত হয়েছেন ১১৮ জন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন। রাজধানী ঢাকায় গত মাসে ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, অতিরিক্ত গতি, চালকদের অদক্ষতা ও বেপরোয়া মনোভাব, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।

জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৩৮

আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

দেশে গত জুন মাসে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ৫৬১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৬ জন শিশু ও ৪৪ জন নারী রয়েছেন। একই সময়ে ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৪ জন, যা মোট নিহতের প্রায় ৩১ শতাংশ। রোববার (৫ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মাসিক দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ছিল ৩০ দশমিক ৭২ শতাংশ। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় ৯১ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। একই সময়ে যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৭ জন। সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি জুন মাসে দেশে ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ২১টি রেলপথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৭ জন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী নিহত হয়েছেন ১৩৪ জন। এছাড়া থ্রি-হুইলারের (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান ও মিশুক) যাত্রী নিহত হয়েছেন ১১২ জন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রলির আরোহী ৩৭ জন, বাসের যাত্রী ২৭ জন, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের আরোহী ১৪ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের ১৫ জন এবং রিকশা ও সাইকেলের আরোহী ৮ জন।

প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মোট দুর্ঘটনার মধ্যে ১৫১টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৯৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬৪টি গ্রামীণ সড়কে, ৫৭টি শহরের সড়কে এবং ৬টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে। দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে নিয়ন্ত্রণ হারানো (৪৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ), মুখোমুখি সংঘর্ষ (২৩ দশমিক ৯ শতাংশ), পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া (২০ দশমিক ৫৫ শতাংশ) এবং যানবাহনের পেছনে ধাক্কা দেওয়া (১১ দশমিক ২২ শতাংশ)।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এতে নিহত হয়েছেন ১১৮ জন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন। রাজধানী ঢাকায় গত মাসে ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, অতিরিক্ত গতি, চালকদের অদক্ষতা ও বেপরোয়া মনোভাব, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।