ঢাকা ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

যশোর দর্পণ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৫৪:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৪ বার পঠিত

 রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতার বালিগঞ্জে শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে দুর্ঘটনাজনিত আঘাতের পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন বাংলা সাহিত্যের এই অনন্য কবি। এর আট দিন আগে, ১৪ অক্টোবর, কলকাতার বালিগঞ্জে ট্রাম দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। ট্রামের নিচে পড়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগে। ভেঙে যায় কণ্ঠ, ঊরু ও পাঁজরের হাড়।

কলকাতায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করলেও জীবনানন্দ দাশের শিকড় বাংলাদেশের বরিশালে। বাংলার নিসর্গ, নদী, গ্রাম ও মানুষের জীবনকে অসামান্য কাব্যিক সৌন্দর্যে তুলে ধরে তিনি হয়ে উঠেছেন বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি যেমন মূর্ত হয়েছে, তেমনি প্রকাশ পেয়েছে মানুষের নিঃসঙ্গতা, জীবনবোধ ও আধুনিক নগরজীবনের ক্লান্তি।

বরিশালের মাটিতে কবির শিকড়

জীবনানন্দ দাশের পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল তৎকালীন ঢাকা জেলার বিক্রমপুর পরগণার কুমারভোগের গাওপাড়া গ্রামে। পদ্মার ভাঙনে গ্রামটি বিলীন হয়ে যায়। উনিশ শতকের শেষ দিকে দাশ পরিবার বিক্রমপুর থেকে বরিশালে চলে আসে।

জীবনানন্দের বাবা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন বরিশাল ব্রজমোহন স্কুলের শিক্ষক, প্রাবন্ধিক ও বরিশাল ব্রাহ্মসমাজের সম্পাদক। তিনি ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র ‘ব্রাহ্মবাদী’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদকও ছিলেন। তাঁর মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। তাঁর লেখা ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতার পঙ্‌ক্তি—‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/কথায় না বড় হয়ে কাজে বড়ো হবে’—আজও পাঠ্যবইয়ে স্থান পেয়েছে।

১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন জীবনানন্দ দাশ। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘মিলু’। পারিবারিক সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের মধ্যেই তাঁর কবিসত্তার বিকাশ ঘটে।

জীবদ্দশায় অবহেলা, মৃত্যুর পর স্বীকৃতি

জীবনানন্দ দাশের জীবন ছিল অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ব্যক্তিগত টানাপোড়েনে পূর্ণ। কবিতা লেখার কারণে অধ্যাপনার চাকরি হারানোর অভিজ্ঞতাও তাঁর হয়েছিল। বরিশাল, বাগেরহাট ও কলকাতায় জীবিকার সন্ধানে তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়।

জীবদ্দশায় সাহিত্যিক হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রচার কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাননি। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ছিল সীমিত। কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁর পাণ্ডুলিপি ও ব্যক্তিগত লেখার ভান্ডার থেকে বহু অপ্রকাশিত কবিতা, উপন্যাস ও ছোটগল্প প্রকাশিত হয়। ধীরে ধীরে বাংলা সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদান নতুনভাবে মূল্যায়িত হতে থাকে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ঝরা পালক’, ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’, ‘বনলতা সেন’, ‘মহাপৃথিবী’, ‘সাতটি তারার তিমির’ ও ‘রূপসী বাংলা’। এর মধ্যে ‘রূপসী বাংলা’ প্রকাশিত হয় তাঁর মৃত্যুর পর। ‘বনলতা সেন’ বাংলা ভাষার অন্যতম জনপ্রিয় কবিতা, যা পাঠক ও আবৃত্তিশিল্পীদের কাছে আজও সমান সমাদৃত।

কবিতার পাশাপাশি উপন্যাস ও প্রবন্ধ রচনাতেও তিনি রেখেছেন স্বতন্ত্র স্বাক্ষর। তাঁর ‘মাল্যবান’, ‘সুতীর্থ’ উপন্যাস এবং ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থ বাংলা সাহিত্যের আধুনিক চিন্তা ও মননশীলতার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

কবিতায় বাংলার প্রকৃতি ও মানুষের নিঃসঙ্গতা

জীবনানন্দের কবিতায় বাংলার নদী, মাঠ, ধানক্ষেত, পাখি ও গ্রামীণ প্রকৃতি এক অনন্য সৌন্দর্যে ধরা দিয়েছে। ধানসিঁড়ি নদী, কুয়াশাচ্ছন্ন পথ, সন্ধ্যার আলো কিংবা বাংলার চিরচেনা নিসর্গ তাঁর কবিতায় পেয়েছে নতুন মাত্রা।

একই সঙ্গে তাঁর লেখায় উঠে এসেছে মানুষের অন্তর্গত নিঃসঙ্গতা, সময়ের প্রবাহ, জীবনের অনিশ্চয়তা এবং আধুনিক সভ্যতার ক্লান্তি। রবীন্দ্রনাথ-পরবর্তী বাংলা কবিতার বিকাশে তিনি হয়ে ওঠেন অন্যতম প্রধান পথপ্রদর্শক। তাঁর কাব্যভাষা, চিত্রকল্প ও জীবনদর্শন পরবর্তী প্রজন্মের কবিদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

জীবনানন্দের কবিতা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে শেখায় না, বরং মানুষের অন্তর্জগতের নীরবতা ও একাকিত্বকেও উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। ব্যস্ত ও কোলাহলপূর্ণ জীবনে তাঁর কবিতা পাঠককে যেন একটুখানি প্রশান্তির আশ্রয় দেয়।

মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা ও বাড়ি পুনরুদ্ধারের দাবি

জীবনানন্দ দাশের কবিতা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের সময়ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিল। তাঁর কবিতায় বাংলার মাটি, প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা বাঙালির আত্মপরিচয়ের সঙ্গে মিশে আছে।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগে সপরিবারে কলকাতায় চলে যান কবি। বরিশালে তাঁর পরিবারের বাড়ি ও জমি থেকে যায়। পরবর্তী সময়ে বাড়িটির মালিকানা ও বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। কবির স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন কবিপ্রেমী ও সংস্কৃতিকর্মীরা।

জীবনানন্দ দাশের মৃত্যু হয়েছে ৭২ বছর আগে। কিন্তু তাঁর কবিতার আবেদন আজও ফুরিয়ে যায়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সাহিত্যকর্ম নতুন পাঠ, ব্যাখ্যা ও আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। বাংলার প্রকৃতি, মানুষের নিঃসঙ্গতা এবং সৌন্দর্যের সন্ধান যত দিন পাঠকের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে, তত দিন অমর হয়ে থাকবেন রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ।

ট্যাগস :

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেট সময় : ১২:৫৪:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

 রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতার বালিগঞ্জে শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে দুর্ঘটনাজনিত আঘাতের পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন বাংলা সাহিত্যের এই অনন্য কবি। এর আট দিন আগে, ১৪ অক্টোবর, কলকাতার বালিগঞ্জে ট্রাম দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। ট্রামের নিচে পড়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগে। ভেঙে যায় কণ্ঠ, ঊরু ও পাঁজরের হাড়।

কলকাতায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করলেও জীবনানন্দ দাশের শিকড় বাংলাদেশের বরিশালে। বাংলার নিসর্গ, নদী, গ্রাম ও মানুষের জীবনকে অসামান্য কাব্যিক সৌন্দর্যে তুলে ধরে তিনি হয়ে উঠেছেন বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি যেমন মূর্ত হয়েছে, তেমনি প্রকাশ পেয়েছে মানুষের নিঃসঙ্গতা, জীবনবোধ ও আধুনিক নগরজীবনের ক্লান্তি।

বরিশালের মাটিতে কবির শিকড়

জীবনানন্দ দাশের পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল তৎকালীন ঢাকা জেলার বিক্রমপুর পরগণার কুমারভোগের গাওপাড়া গ্রামে। পদ্মার ভাঙনে গ্রামটি বিলীন হয়ে যায়। উনিশ শতকের শেষ দিকে দাশ পরিবার বিক্রমপুর থেকে বরিশালে চলে আসে।

জীবনানন্দের বাবা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন বরিশাল ব্রজমোহন স্কুলের শিক্ষক, প্রাবন্ধিক ও বরিশাল ব্রাহ্মসমাজের সম্পাদক। তিনি ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র ‘ব্রাহ্মবাদী’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদকও ছিলেন। তাঁর মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। তাঁর লেখা ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতার পঙ্‌ক্তি—‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/কথায় না বড় হয়ে কাজে বড়ো হবে’—আজও পাঠ্যবইয়ে স্থান পেয়েছে।

১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন জীবনানন্দ দাশ। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘মিলু’। পারিবারিক সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের মধ্যেই তাঁর কবিসত্তার বিকাশ ঘটে।

জীবদ্দশায় অবহেলা, মৃত্যুর পর স্বীকৃতি

জীবনানন্দ দাশের জীবন ছিল অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ব্যক্তিগত টানাপোড়েনে পূর্ণ। কবিতা লেখার কারণে অধ্যাপনার চাকরি হারানোর অভিজ্ঞতাও তাঁর হয়েছিল। বরিশাল, বাগেরহাট ও কলকাতায় জীবিকার সন্ধানে তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়।

জীবদ্দশায় সাহিত্যিক হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রচার কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাননি। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ছিল সীমিত। কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁর পাণ্ডুলিপি ও ব্যক্তিগত লেখার ভান্ডার থেকে বহু অপ্রকাশিত কবিতা, উপন্যাস ও ছোটগল্প প্রকাশিত হয়। ধীরে ধীরে বাংলা সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদান নতুনভাবে মূল্যায়িত হতে থাকে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ঝরা পালক’, ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’, ‘বনলতা সেন’, ‘মহাপৃথিবী’, ‘সাতটি তারার তিমির’ ও ‘রূপসী বাংলা’। এর মধ্যে ‘রূপসী বাংলা’ প্রকাশিত হয় তাঁর মৃত্যুর পর। ‘বনলতা সেন’ বাংলা ভাষার অন্যতম জনপ্রিয় কবিতা, যা পাঠক ও আবৃত্তিশিল্পীদের কাছে আজও সমান সমাদৃত।

কবিতার পাশাপাশি উপন্যাস ও প্রবন্ধ রচনাতেও তিনি রেখেছেন স্বতন্ত্র স্বাক্ষর। তাঁর ‘মাল্যবান’, ‘সুতীর্থ’ উপন্যাস এবং ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থ বাংলা সাহিত্যের আধুনিক চিন্তা ও মননশীলতার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

কবিতায় বাংলার প্রকৃতি ও মানুষের নিঃসঙ্গতা

জীবনানন্দের কবিতায় বাংলার নদী, মাঠ, ধানক্ষেত, পাখি ও গ্রামীণ প্রকৃতি এক অনন্য সৌন্দর্যে ধরা দিয়েছে। ধানসিঁড়ি নদী, কুয়াশাচ্ছন্ন পথ, সন্ধ্যার আলো কিংবা বাংলার চিরচেনা নিসর্গ তাঁর কবিতায় পেয়েছে নতুন মাত্রা।

একই সঙ্গে তাঁর লেখায় উঠে এসেছে মানুষের অন্তর্গত নিঃসঙ্গতা, সময়ের প্রবাহ, জীবনের অনিশ্চয়তা এবং আধুনিক সভ্যতার ক্লান্তি। রবীন্দ্রনাথ-পরবর্তী বাংলা কবিতার বিকাশে তিনি হয়ে ওঠেন অন্যতম প্রধান পথপ্রদর্শক। তাঁর কাব্যভাষা, চিত্রকল্প ও জীবনদর্শন পরবর্তী প্রজন্মের কবিদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

জীবনানন্দের কবিতা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে শেখায় না, বরং মানুষের অন্তর্জগতের নীরবতা ও একাকিত্বকেও উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। ব্যস্ত ও কোলাহলপূর্ণ জীবনে তাঁর কবিতা পাঠককে যেন একটুখানি প্রশান্তির আশ্রয় দেয়।

মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা ও বাড়ি পুনরুদ্ধারের দাবি

জীবনানন্দ দাশের কবিতা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের সময়ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিল। তাঁর কবিতায় বাংলার মাটি, প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা বাঙালির আত্মপরিচয়ের সঙ্গে মিশে আছে।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগে সপরিবারে কলকাতায় চলে যান কবি। বরিশালে তাঁর পরিবারের বাড়ি ও জমি থেকে যায়। পরবর্তী সময়ে বাড়িটির মালিকানা ও বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। কবির স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন কবিপ্রেমী ও সংস্কৃতিকর্মীরা।

জীবনানন্দ দাশের মৃত্যু হয়েছে ৭২ বছর আগে। কিন্তু তাঁর কবিতার আবেদন আজও ফুরিয়ে যায়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সাহিত্যকর্ম নতুন পাঠ, ব্যাখ্যা ও আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। বাংলার প্রকৃতি, মানুষের নিঃসঙ্গতা এবং সৌন্দর্যের সন্ধান যত দিন পাঠকের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে, তত দিন অমর হয়ে থাকবেন রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ।