শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার সামগ্রী ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৮:১২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৬ বার পঠিত

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ১৪ নম্বর চিংড়াখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাহিদাভিত্তিক খেলাধুলার সামগ্রী কেনার জন্য বরাদ্দ করা দেড় লাখ টাকার সিংহভাগ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক বাবুলাল মণ্ডলের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ে কেনা সামগ্রীর পরিমাণ ও বরাদ্দের অর্থের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিদ্যালয়টির জন্য ‘নিড বেইসড প্লেয়িং অ্যাকসেসরিজ’ (চাহিদাভিত্তিক খেলাধুলার সামগ্রী) কেনার খাতে দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
সরেজমিনে বিদ্যালয় পরিদর্শন করে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার খেলাধুলার সামগ্রী দেখা গেছে । এ হিসাবে বরাদ্দের অবশিষ্ট প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুয়া বিল-ভাউচার ও নথিপত্র তৈরি করে ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শিশুদের খেলাধুলা ও মানসিক বিকাশের জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত এ অর্থ বরাদ্দ দিলেও প্রত্যাশিত সামগ্রী না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাঁরা বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ের হিসাব যাচাই করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি দাবি করেন, সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহীন আলমের তত্ত্বাবধানে কিছু খেলাধুলার সামগ্রী কেনা হয়েছে। অব্যয়িত অর্থ তাঁর কাছে রয়েছে এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিল-ভাউচারের কপি দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দের অর্থ প্রধান শিক্ষকের ব্যাংক হিসাবে দেওয়া হয়। তাই এ ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন আলমের সংশ্লিষ্টতা নেই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বাবুলাল মণ্ডল বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
শ্যামনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারি অর্থের অপচয় বা আত্মসাৎ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি জানান।
বরাদ্দের অর্থের প্রকৃত ব্যবহার নিশ্চিত করা, কেনাকাটার বিল-ভাউচার যাচাই এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।






















