আ’লীগ নেতাদের স্থানীয় নির্বাচনে আটকাতে ইসিতে জামায়াত
- আপডেট সময় : ০৮:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
- / ৫০ বার পঠিত

সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে নির্বাচনী আচরণবিধিতে নতুন বিধান সংযোজনের আহ্বান জানিয়েছে দলটি। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এ প্রস্তাব দেয়।
চিঠিতে বলা হয়, সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতা-কর্মীকে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণার বিধান প্রস্তাবিত নির্বাচনী আচরণবিধিতে যুক্ত করা উচিত।
এ বিষয়ে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমকে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো দলের নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। সে কারণেই নির্বাচন কমিশনের কাছে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, চিঠিতে আরও কয়েকটি প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো কমিশন ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দল ও এর নেতাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করলে তারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
সরকার আগামী অক্টোবর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়ার পর দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। এর প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের নেতাদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত চেয়ে খসড়া আচরণবিধি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই মতামতের অংশ হিসেবেই জামায়াতে ইসলামী এ প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
এ ছাড়া দলটি নির্বাচনী প্রচারে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার বিধান স্পষ্ট করা, স্থানীয় সরকার প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন, প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রাখা, নির্বাচনী ক্যাম্পে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুস্পষ্ট বিধান এবং ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের অধিকার নিশ্চিত করার প্রস্তাবও দিয়েছে।
পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী সদস্যপদ বাতিল করে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে নারী সদস্যের সরাসরি নির্বাচন এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনের ভোটার নির্ধারণের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করারও প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

























