খাজুরাকে উপজেলা করার ঘোষণা দিলেন এমপি গোলাম রসুল
- আপডেট সময় : ০৬:১২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫ বার পঠিত

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র খাজুরা অঞ্চলকে উপজেলা করার ঘোষণা দিয়েছেন যশোর-৮৮-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল। পাশাপাশি খাজুরাকে থানা অথবা পৌরসভায় উন্নীত করার বিষয়েও সরকারের উচ্চপর্যায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার বিকেলে খাজুরা বাজারের আমিন প্লাজায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত সুধী ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় এমপি গোলাম রসুল বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও সার্বিক উন্নয়নের সম্ভাবনা বিবেচনায় খাজুরা অঞ্চলকে পৃথক প্রশাসনিক ইউনিটে উন্নীত করার যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে। খাজুরাকে উপজেলা, থানা অথবা পৌরসভায় উন্নীত করতে সরকারের উচ্চপর্যায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
সভায় নিজের গত ৬-৭ মাসের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ইটের সলিং রাস্তা, মসজিদ, মাদ্রাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কলেজের জন্য প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। সামনে আরও প্রকল্প আসবে। এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান ও শ্মশানের জন্য ৩০ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রস্তাবনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫০ লাখ বা ১ কোটি টাকার বরাদ্দ, রাস্তাঘাট কিংবা দলীয় ডিলারশিপ, কোনো ক্ষেত্রেই তিনি কারও কাছ থেকে এক টাকা অনুদান বা ঘুষ নেননি। কোনো শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে টাকার বিনিময়ে সুবিধা নিতে হয়নি। সুপারিশ ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই এসব বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে এমপি গোলাম রসুল বলেন, এমপিদের নাম ভাঙিয়ে কিছু লোক বাজারে বা বিভিন্ন স্থানে চাঁদা দাবি করে। তাঁর স্পষ্ট অবস্থান হলো, কোনো চাঁদাবাজ বা অবৈধ সুবিধাভোগীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। বাজারে চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি বন্ধে তিনি সার্বিক সহযোগিতা করবেন।
নিজের আর্থিক অবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এমপি হলেই পকেটে কোটি কোটি টাকা, মানুষের এমন ধারণা সঠিক নয়। সরকারি নির্ধারিত ভাতা থেকেই তাঁর তেলের খরচ, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় সহায়তা দিতে হয়। এমপি হওয়ার আগে তাঁর যে আর্থিক অবস্থা ছিল, বর্তমানে তার চেয়েও কঠিন পরিস্থিতিতে আছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আমিন প্লাজার সত্ত্বাধিকারী ও চণ্ডীপুর মাদ্রাসার সুপার হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং তরুণ ব্যবসায়ী এবি মুন্তাসিরের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন খাজুরা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মুফতি মাওলানা মনিরুল ইসলাম, মুদি ব্যবসায়ী শিহাবুর রহমান, ব্যবসায়ী কার্তিক মণ্ডল এবং খাজুরা কেন্দ্রীয় বৈদিক কালীবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত মৃত্যুঞ্জয় মজুমদার।
সভায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাজারের ড্রেনেজ সমস্যা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। সংসদ সদস্য এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।























