ঢাকা ০৮:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের নিরাপত্তায় আনসার, প্রস্তুত স্ট্রাইকিং ফোর্স Logo যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুনের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ Logo বাঘারপাড়ায় বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলার ৪ আসামি আটক Logo সাতক্ষীরার তালায় মাদক সেবনের দায়ে একজনের কারাদণ্ড Logo কুলাউড়ায় মহিলা ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে প্রবাসীর সম্পত্তি দখল চেষ্টা Logo মানুষের বসতভিটা রক্ষায় নদীপাড়ে এমপি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর Logo কন্টেন্ট নির্মাণ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী নড়াইলের সৌরভ Logo জমে উঠেছে কেশবপুরের গড়ভাঙ্গা সুপারি হাট, জমজমাট কেনাবেচা Logo কোটালীপাড়ার ৯৫ বছরের বৃদ্ধের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo ডুমুরিয়ায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’র শুভ উদ্বোধন
ফল চাষ ও বারো মাস সংরক্ষণের আহ্বান

খুলনায় তিন দিনব্যাপী জেলা ফল মেলা শুরু

শেখ মাহতাব হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৭:৪০:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • / ৫৩ বার পঠিত

“করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জেলা ফল মেলা-২০২৬। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১১টায় খুলনা খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপপরিচালকের কার্যালয় চত্বরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে মেলার উদ্বোধন করা হয়।

খুলনা জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনার উপপরিচালক কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য কৃষিবিদ ড. এস এম ফেরদৌস, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) আব্দুস সামাদ, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সুবির কুমার বিশ্বাস এবং অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) তৌহিদীন ভূইয়া। এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রগতিশীল কৃষক-কৃষাণী, ফলচাষি, কৃষি উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মেলায় খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত চাষিরা দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফল প্রদর্শন করছেন। স্টলগুলোতে আম, কাঁঠাল, জাম, পেয়ারা, ড্রাগন ফল, মাল্টা, আনারস, পেঁপের পাশাপাশি কাউফল, খেজুরসহ বিভিন্ন প্রচলিত ও অপ্রচলিত বিলুপ্তপ্রায় ফলের সমাহার দেখা যায়। মেলায় মোট ১০টি স্টল অংশ নিয়েছে। এতে ডুমুরিয়া, কয়রা, রূপসা, তেরখাদা, ফুলতলা, দাকোপ, দিঘলিয়া, বটিয়াঘাটা ও পাইকগাছা উপজেলা ছাড়াও মেট্রো কৃষি অফিস লবণচরা ও দৌলতপুরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন।

মেলার মূল মঞ্চে ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো. আব্দুস সামাদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ বলেন, “জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে নিরাপদ পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই। নিরাপদ ফল উৎপাদন ও সঠিক সংরক্ষণে কৃষকদের আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম ফলের পুষ্টিগুণ ও এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি দেশি ও বিদেশি জাতের ফল সফলভাবে চাষ হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও কৃষকদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে দেশে মাথাপিছু ফল গ্রহণের পরিমাণ পূর্বের ৪৪ দশমিক ৭ গ্রাম থেকে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, প্রথম দিনেই দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। আয়োজকরা আশা করছেন, এ মেলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম ফল চাষে আরও আগ্রহী হবে এবং ফল সংরক্ষণ প্রযুক্তির প্রসার ঘটবে খুলনাসহ সারা দেশে।

ট্যাগস :

ফল চাষ ও বারো মাস সংরক্ষণের আহ্বান

খুলনায় তিন দিনব্যাপী জেলা ফল মেলা শুরু

আপডেট সময় : ০৭:৪০:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

“করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জেলা ফল মেলা-২০২৬। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১১টায় খুলনা খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপপরিচালকের কার্যালয় চত্বরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে মেলার উদ্বোধন করা হয়।

খুলনা জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনার উপপরিচালক কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য কৃষিবিদ ড. এস এম ফেরদৌস, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) আব্দুস সামাদ, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সুবির কুমার বিশ্বাস এবং অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) তৌহিদীন ভূইয়া। এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রগতিশীল কৃষক-কৃষাণী, ফলচাষি, কৃষি উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মেলায় খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত চাষিরা দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফল প্রদর্শন করছেন। স্টলগুলোতে আম, কাঁঠাল, জাম, পেয়ারা, ড্রাগন ফল, মাল্টা, আনারস, পেঁপের পাশাপাশি কাউফল, খেজুরসহ বিভিন্ন প্রচলিত ও অপ্রচলিত বিলুপ্তপ্রায় ফলের সমাহার দেখা যায়। মেলায় মোট ১০টি স্টল অংশ নিয়েছে। এতে ডুমুরিয়া, কয়রা, রূপসা, তেরখাদা, ফুলতলা, দাকোপ, দিঘলিয়া, বটিয়াঘাটা ও পাইকগাছা উপজেলা ছাড়াও মেট্রো কৃষি অফিস লবণচরা ও দৌলতপুরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন।

মেলার মূল মঞ্চে ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো. আব্দুস সামাদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ বলেন, “জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে নিরাপদ পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই। নিরাপদ ফল উৎপাদন ও সঠিক সংরক্ষণে কৃষকদের আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম ফলের পুষ্টিগুণ ও এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি দেশি ও বিদেশি জাতের ফল সফলভাবে চাষ হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও কৃষকদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে দেশে মাথাপিছু ফল গ্রহণের পরিমাণ পূর্বের ৪৪ দশমিক ৭ গ্রাম থেকে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, প্রথম দিনেই দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। আয়োজকরা আশা করছেন, এ মেলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম ফল চাষে আরও আগ্রহী হবে এবং ফল সংরক্ষণ প্রযুক্তির প্রসার ঘটবে খুলনাসহ সারা দেশে।