ঢাকা ০৪:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিতলমারীতে জরাজীর্ণ ইউপি ভবন; ঝুঁকিতে স্টাফ ও সেবাগ্রহীতারা

প্রিন্স হালদার, চিতলমারী (বাগেরহাট)
  • আপডেট সময় : ০৩:৩১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩৫ বার পঠিত

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ১ নং বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানের ছাদ ও পলেস্তারা ভেঙে পড়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চরম ঝুঁকি নিয়ে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রতিদিন বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও আতঙ্কের মধ্যে পরিষদ ভবনে প্রবেশ করছেন।

জানা গেছে, উপজেলার দোলুয়াগুনি বাজারে অবস্থিত ১ নং বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো। সময়ের সঙ্গে ভবনটির বিভিন্ন অংশের অবস্থা এতটাই নাজুক হয়ে পড়েছে যে, কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, আবার কোথাও ভবনের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ক্ষয় ও ভাঙন। পরিষদের একাধিক কক্ষ বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বিভিন্ন কক্ষের ছাদ ও দেয়ালের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। কোথাও কোথাও ছাদের অংশ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে পরিষদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকটা বাধ্য হয়েই মাথায় হেলমেট পরে অফিসের কাজ করতে হচ্ছে।

শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নন, পরিষদে বিভিন্ন কাজে আসা সাধারণ মানুষও ঝুঁকি নিয়ে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করছেন। ছাদ থেকে হঠাৎ পলেস্তারা বা কোনো অংশ খসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকেই আতঙ্কিত। বিশেষ করে হলরুম, তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে প্রতিদিনই মানুষের উপস্থিতি থাকে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির এমন বেহাল অবস্থা থাকলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। একটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্রসহ নানা সরকারি সেবা নিতে আসেন। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মোর্শেদুর রহমান বলেন, পরিষদ ভবনের একটি রুমও ভালো নেই। হলরুম, তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থান রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সেবা নিতে আসেন। অনেকের মাথার ওপর ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হেলমেট পরে অফিস করতে হচ্ছে। এতে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাসুদ সরদার বলেন, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও তিনি জানান।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। এতে পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ইউনিয়নবাসী স্বাভাবিক পরিবেশে সরকারি সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে দ্রুত নতুন ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

ট্যাগস :

চিতলমারীতে জরাজীর্ণ ইউপি ভবন; ঝুঁকিতে স্টাফ ও সেবাগ্রহীতারা

আপডেট সময় : ০৩:৩১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ১ নং বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানের ছাদ ও পলেস্তারা ভেঙে পড়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চরম ঝুঁকি নিয়ে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রতিদিন বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও আতঙ্কের মধ্যে পরিষদ ভবনে প্রবেশ করছেন।

জানা গেছে, উপজেলার দোলুয়াগুনি বাজারে অবস্থিত ১ নং বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো। সময়ের সঙ্গে ভবনটির বিভিন্ন অংশের অবস্থা এতটাই নাজুক হয়ে পড়েছে যে, কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, আবার কোথাও ভবনের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ক্ষয় ও ভাঙন। পরিষদের একাধিক কক্ষ বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বিভিন্ন কক্ষের ছাদ ও দেয়ালের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। কোথাও কোথাও ছাদের অংশ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে পরিষদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকটা বাধ্য হয়েই মাথায় হেলমেট পরে অফিসের কাজ করতে হচ্ছে।

শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নন, পরিষদে বিভিন্ন কাজে আসা সাধারণ মানুষও ঝুঁকি নিয়ে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করছেন। ছাদ থেকে হঠাৎ পলেস্তারা বা কোনো অংশ খসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকেই আতঙ্কিত। বিশেষ করে হলরুম, তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে প্রতিদিনই মানুষের উপস্থিতি থাকে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির এমন বেহাল অবস্থা থাকলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। একটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্রসহ নানা সরকারি সেবা নিতে আসেন। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মোর্শেদুর রহমান বলেন, পরিষদ ভবনের একটি রুমও ভালো নেই। হলরুম, তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থান রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সেবা নিতে আসেন। অনেকের মাথার ওপর ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হেলমেট পরে অফিস করতে হচ্ছে। এতে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাসুদ সরদার বলেন, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও তিনি জানান।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। এতে পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ইউনিয়নবাসী স্বাভাবিক পরিবেশে সরকারি সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে দ্রুত নতুন ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।