“জব্দ পণ্য উধাও, ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা”
- আপডেট সময় : ১২:০৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / ১১৮ বার পঠিত

বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের জব্দকৃত ভারতীয় পণ্য আত্মসাতের অভিযোগে বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
বুধবার সন্ধ্যায় বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আমির মাহামুদ আরেফিন বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও সাতজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আসামিদের নাম প্রকাশ করেনি। এদিকে, বন্দরের নিরাপত্তার মধ্যে থেকে জব্দকৃত আমদানি পণ্য আত্মসাতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠনের নেতারা।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, যশোরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সাফা ইমপেক্স’ গত ১২ মার্চ ভারত থেকে একটি পণ্যচালান আমদানি করে। চালানটির সিএন্ডএফ এজেন্ট ছিল বেনাপোলের মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজ। পরে চালানটি বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে রাখা হয়।
আমদানি নথিতে পণ্য হিসেবে বেকিং পাউডারের ঘোষণা দেওয়া হলেও কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষায় ভিন্ন চিত্র উঠে আসে। পরীক্ষাকালে ১০৮ কার্টনে ঘোষণা বহির্ভূত প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, বেবিওয়্যার, ফেসওয়াশ, ক্রিম, লোশনসহ বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া যায়। এসব পণ্য মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে আমদানি করে প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল বলে কাস্টমসের দাবি।
পরে গত ১৪ মার্চ এসব পণ্য জব্দ করে ৩৭ নম্বর শেডে সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু গত ২ জুন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, দামি ভারতীয় পণ্য সরিয়ে সেখানে নিম্নমানের দেশীয় পণ্য রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বন্দরের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতার সন্দেহ করছে কাস্টমস।
ঘটনার পর বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রায় ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকার রাজস্ব পরিশোধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। শেড ইনচার্জকে প্রত্যাহার করে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। কাস্টমসের দাবি, পুরো ঘটনার সঙ্গে বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে।
অভিযুক্ত সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আনিসুর রহমান বলেন, জব্দ হওয়া চালানটির খালাসের জন্য তাদের প্রতিষ্ঠান কোনো বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেনি। রাজু নামের এক ব্যক্তি তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। বিষয়টি কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, জব্দকৃত ভারতীয় পণ্যের পরিবর্তে যে দেশীয় পণ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো বসুন্ধরা ও মেঘনা শিল্প গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামযুক্ত কার্টনে রাখা ছিল। এছাড়া দেশীয় সংবাদপত্রে মোড়ানো এবং বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের স্টিকারযুক্ত পিপি বস্তাও উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, পণ্যগুলো দেশের ভেতর থেকেই সেখানে এনে রাখা হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, কাস্টমসের দায়ের করা মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।























