দুর্গাপূজার আলোকসজ্জা সীমিত করার আহ্বান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৮:১৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৯ বার পঠিত

যশোরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার, অপতৎপরতা প্রতিরোধ এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘অমিত্রাক্ষর’ সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।
সভায় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে দুর্গাপূজায় অতিরিক্ত আলোকসজ্জা না করে মণ্ডপ ও প্রতিমাকেন্দ্রিক সীমিত পরিসরে আলো ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি বলেন, ব্যাপক আলোকসজ্জা বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি জেনারেটর ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে আমদানি করতে হয়। তাই জাতীয় স্বার্থে জ্বালানি ও বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী পূজামণ্ডপে কোনো ধরনের অপতৎপরতা, অনুপ্রবেশ বা পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিজ নিজ এলাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ সময় তিনি জানান, আগামী ১ অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। অবৈধ মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় জানানো হয়, এবছর যশোর জেলায় ৭৩৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৭০৯টি। অর্থাৎ এবছর ২৮টি পূজামণ্ডপ বেড়েছে।
এছাড়া সভায় জানানো হয়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিটি মন্দিরের জন্য সরকারি চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার কেজি করা হয়েছে।
সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রণ, দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল, ছিনতাই প্রতিরোধ এবং প্রশাসনের সঙ্গে পূজা উদযাপন কমিটির সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলার বিভিন্ন থানার ওসি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা, বিজিবি ও এনএসআইয়ের কর্মকর্তাসহ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা নিজ নিজ এলাকার প্রস্তুতি ও বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।






















